মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমানের (৩০) মরদেহ হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে মুজিবুরের মরদেহ হস্তান্তর করে। নিহত মুজিবুর শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের বাসিন্দা মৃত অজিবুর রহমানের ছেলে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান, ভারতের ইরানী থানার সেকেন্ড ওসি শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ডেন্ট দেবেশ বর্ম, চাতলাপুর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল কালাম, শরীফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নুল ইসলাম, নিহতের চাচা ফজির আলীসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দত্তগ্রাম সীমান্ত বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন ৪৬ বিজিবি’র আওতায় পড়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় এলাকার ৫-৬ জন যুবক সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে লখাইরচর এলাকায় প্রবেশ করলে ভারতের ইরানী থানার অন্তর্গত লাঠিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে মুজিবুর মারা যায় এবং তার সঙ্গে থাকা সহযোগিরা পালিয়ে আসে।
কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘‘চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে মুজিবুরের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’’
এদিকে শনিবার (১৩ জুন) রাতে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘শুক্রবার সন্ধ্যায় দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশী ৬-৭ জনের বিবৃতিতের দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানি মালামাল আনতে সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস হতে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে লখাইরচর নামক স্থান অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় ১৯৯ ব্যাটালিয়নের লাঠিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা চোরাকারবারিদের বাধা প্রদান করলে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আক্রমণের চেষ্টা করে। ওই সময় বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারিদের উপর ২-৩ রাউন্ড গুলি করলে মুজিব আলী নামে বাংলাদেশি চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে।’’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘এছাড়া তার সাথে থাকা বাকি চোরাকারবারিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে এসে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা যায়। নিহত চোরাকারবারি ইতিপূর্বে চোরাচালানি মালামাল পরিবহনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতের মরদেহ দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









