সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত ও তার মরদেহ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখার দাবি ঘিরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিখোঁজ যুবকের সন্ধান না পাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে অবশ্য বিজিবির মাধ্যমে তাকে ফেরত দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ যুবকের নাম ডিপজল আহমদ। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে ডিপজলসহ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং গুলি চালায়। এ সময় ডিপজলের সঙ্গে থাকা অন্য যুবকেরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসতে পারলেও ডিপজল নিখোঁজ হন। পালিয়ে আসা যুবকদের দাবি, বিএসএফের গুলিতে ডিপজল মারা গেছেন এবং তার মরদেহ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক ভারতীয় কৃষককে তুলে নিয়ে আসেন উত্তেজিত জনতা। এতে দুই দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিজিবির মধ্যস্থতায় ওই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ প্রসঙ্গে বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল মুকিত জানান, সীমান্তের ওপারে কয়েকজন যুবক গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তিনজন পালিয়ে এলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। যারা ফিরে এসেছেন, তাদের দাবি—নিখোঁজ যুবককে গুলি করে মেরে মরদেহ আটকে রেখেছে বিএসএফ। তাকে ফেরত না দেওয়ায় উত্তেজিত স্থানীয়রা এক ভারতীয় নাগরিককে তুলে এনেছিলেন। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা ভারতীয় এক নাগরিককে তুলে এনেছিলেন, পরে তাকে বিজিবির মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজের বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। সে জীবিত নাকি মৃত, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
জকিগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, উত্তরকুল সীমান্ত এলাকার লোকজন ওপারে একজনকে গুলি করে মারার দাবি করছেন। তবে এই নিখোঁজের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি।
এ বিষয়ে জানতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবি'র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার মুঠোফোনে জানান, তিনি একটি জরুরি বৈঠকে আছেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









