নীলফামারীর সৈয়দপুরে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বৈদ্যুতিক তার চুরি। সংঘবদ্ধ চক্রের ধারাবাহিক এ তৎপরতায় একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন জাভেদ-নাজনীন দম্পতি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু’বার তাঁদের বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ তার কেটে নিয়ে গেছে চোরেরা। বারবার এ ধরনের চুরির ঘটনায় চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই দম্পতি বলেন, প্রতিবার নতুন করে তার কিনে সংযোগ দিতে হচ্ছে। এভাবে বারবার তার কিনে এনে লাগানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দ্রæত চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়ক ব্যবহারকারীরা। রাত নামলেই শহীদ ক্যাপটেন মীঢ়ধা শামসুল হুদা সড়কের স্ট্রিট লাইট নিভে যায়, সৃষ্টি হয় ভূতুড়ে পরিবেশ। সেনানিবাস ও বিমানবন্দরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অন্ধকারের কারণে পথচারী ও যানবাহন চালকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক এহসানুল কবির বলেন, প্রায়ই স্ট্রিট লাইটের তার চুরি হয়ে যাচ্ছে। ফলে রাত হলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। চলাচলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে গত ১৯ জুন সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসকের ফেসবুক পেজে একটি সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, বিমানবন্দর সড়কের খাটিয়া মহল্লা থেকে নিচু কলোনি মোড় পর্যন্ত স্ট্রিট লাইটের বৈদ্যুতিক তার বারবার চুরি হওয়ায় আলোকসজ্জা ব্যাহত হচ্ছে। একাধিকবার মেরামত করা হলেও চুরি রোধ করা যাচ্ছে না। সরকারি সম্পদ রক্ষায় জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) জানিয়েছে, গত দুই মাসে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার সাপ্লাই লাইনের কপার তার চুরি হয়েছে। নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, চুরি হওয়া কপার তার অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বর্তমানে এসব তারের পর্যাপ্ত মজুদও নেই। চুরি অব্যাহত থাকলে শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও জানান, সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সৈয়দপুর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগেও গত শনিবার রাতে শহরের উপকণ্ঠে মাহফুজ বৃদ্ধাশ্রমের সার্ভিস লাইনের তার চুরি হয়েছে। এতে সেখানে বসবাসরত প্রবীণদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এর আগে ওয়াপদা মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানের সংযোগ লাইনের তারও চুরি হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এভাবে বারবার তার চুরি হলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন, শুধু বৈদ্যুতিক তার নয়, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মিটার, পানির মোটরসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও বেড়েছে। প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় প্রশাসনও উদ্বিগ্ন। বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উত্থাপন করে পুলিশের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া চুরি যাওয়া যায়গায় পৌরসভার পক্ষ থেকে দ্রæত বৈদ্যুতিক মেরামতের কাজ করা হচ্ছে এবং শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ও সড়কে বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, চুরি প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন তার চোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









