গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মোলাইদ ও টেপিরবাড়ী গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন থাকা এ দুই গ্রামের মানুষের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর উদ্যোগ ও হস্তক্ষেপে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের কাজিম উদ্দিন মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
মাওনা জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘শুভ গ্রাম বিদ্যুতায়ন’ প্রকল্পের আওতায় মোলাইদ ও টেপিরবাড়ী গ্রামে ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩৭টি এইচটি স্প্যান, ৬টি আন্ডার-বিল্ট স্প্যান এবং ৬টি ডুপ্লেক্স স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৭ দশমিক ৫ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে। প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৫টি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যার সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় ১০০টি পরিবার।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সাবেক সভাপতি ও শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মাহফুল হাসান হান্নান, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. আকমল হোসেন এবং মাওনা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী শান্তনু রায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেহ উদ্দিন মৃধা, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু জাফর সরকার, তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নূরুল আমিন আকন্দ এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান মোড়ল।
তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান রমজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মোলাইদ উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সাদিকুল ইসলাম (সারমীন)। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিদ্যুৎ ইউনিট শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল মণ্ডল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “উন্নয়নের সুফল থেকে কোনো এলাকার মানুষকে বঞ্চিত রাখা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন থাকা মোলাইদ ও টেপিরবাড়ী গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এলাকার অবশিষ্ট পরিবারগুলোকেও বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।”
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা বলেন, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে গ্রাম দুটির মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং গৃহভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে তারা গ্রাহকদের নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চারপাশে শিল্পকারখানার আলোকসজ্জা থাকলেও এতদিন তাদের ঘরে বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার পর কেরোসিনের কুপিবাতি কিংবা সৌরবিদ্যুতের সীমিত আলোর ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় তারা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিনা আক্তার বলেন, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ শুধু আমাদের ঘরে আলোই আনেনি, দীর্ঘদিনের বঞ্চনারও অবসান ঘটিয়েছে। বিদ্যুতের সুবিধায় শিক্ষা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে আমরা আশা করছি। একই সঙ্গে যেসব পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে, তাদেরও দ্রুত সংযোগের আওতায় আনার দাবি জানাই


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









