মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চায়ের দোকানে পানি খাওয়ার গ্লাস নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে কাচের গ্লাসের আঘাতে সোহেল মিয়া (৩৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত সোহেল মিয়া (৩৪) উপজেলার আলিশারকুল গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সিন্দুরখান সড়কে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়াকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। আটক ইসমাইল সিন্দুরখান সড়ক এলাকার ফজর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালের দিকে সোহেল মিয়া সিন্দুরখান সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। এ সময় পানি খাওয়ার গ্লাস দেওয়া নিয়ে ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইসমাইল মিয়া উত্তেজিত হয়ে দোকানে থাকা একটি কাচের গ্লাস দিয়ে সোহেলের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফিরে যান। তবে দুপুরের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক অর্নিবান দেব বলেন, সোহেল মিয়ার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং সেখানে পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্বিতীয়বার যখন তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। আর সোহেল মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









