গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর বলেছেন, “আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশে প্রকৃত কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে হরিলুট, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার হয়েছে। জনগণের অর্থ লুট করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। তিনি ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সপ্তাহের সাত দিনই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে পিরোজপুরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাদক দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর একার পক্ষে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানের চলাফেরা, সঙ্গী নির্বাচন ও সময় কাটানোর বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পিরোজপুরে পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে নেছারাবাদ, কাউখালী ও মঠবাড়িয়া উপজেলায় কয়েকজন শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাই পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্বিঘ্নে এবং ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।”
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাইদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাইদী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহিরুল হক।
এ সময় জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শহরের সিও অফিস-সংলগ্ন উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









