জাতীয় দৈনিক এদিন পত্রিকায় ‘সরকারি বইসহ ট্রাক জব্দ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের নতুন-পুরানো ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়ে।
শিক্ষক আকতার হোসেন পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
গত ২৬ জুন দুপুরে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার একটি ভাঙারির দোকানের সামনে থেকে ট্রাকে ভর্তি করার সময় স্থানীয় জনতা বিপুল পরিমাণ বইসহ একটি ট্রাক আটক করে। এই ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৬ জুন (শুক্রবার) দুপুরে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার জনৈক হান্নানের ভাঙারির দোকানের সামনে একটি বগুড়াগামী ট্রাকে আনুমানিক ৮ হাজার কেজি নতুন-পুরানো বই, গাইড বই ও কার্টন বিক্রির উদ্দেশে লোড করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা বই ও কার্টনসহ ট্রাকটি আটক করে। পরবর্তীতে তল্লাশি করে দেখা যায়, সেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের প্রচুর নতুন ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক রয়েছে।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত জাকারিয়া নামের এক হকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে তিনি এই বইগুলো কিনেছেন। এই মর্মে হকার জাকারিয়া তাৎক্ষণিকভাবে একটি লিখিত বক্তব্যও দাখিল করেন। ২৩ জুন প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন ও তার সহযোগীরা কোনো প্রকার নিলাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বিদ্যালয়ের ২য় তলার বিজ্ঞানাগার থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত ও ভোকেশনালসহ বিভিন্ন বিষয়ের সর্বমোট ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বই গোপনে হকার জাকারিয়ার কাছে মাত্র ৮ হাজার ৮০৫ টাকায় বিক্রি করে দেন। যার মোট ওজন ৫৮৭ কেজি। সরকারি কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে বই বিক্রির এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং বিক্রির পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাউকেই অবহিত করা হয়নি।
পরবর্তীতে বুধবার (১ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশক্রমে প্রাথমিক স্তরের বইগুলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং গাইড বইগুলো সংশ্লিষ্ট প্রাপকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বই মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ জব্দ করেছে। বইগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পরামর্শক্রমে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানান।
মঠবাড়িয়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









