জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। নবঘোষিত কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তি এবং অন্য রাজনৈতিক দলের বহিষ্কৃত ও বর্তমান নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, গত ২৩ জুন পূর্বের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে পিরোজপুর জেলার জন্য ছয় মাস মেয়াদি ১০১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিনাঞ্চলে মুখ্য সংগঠক হাসানাত আব্দুল্লাহ। এতে হুমায়ুন কবিরকে আহ্বায়ক এবং মাইনুল আহসান মুন্নাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নবগঠিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে গণ অধিকার পরিষদের পিরোজপুর জেলা কমিটির বহিষ্কৃত সভাপতি নাজমুল ইসলাম সোহাগকে।পাশাপাশি পূর্ববর্তী কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে বা কমিটি থেকে বাদ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আগের কমিটির সদস্য সচিব আল আমিন খানকে যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসাইনকে আইন সম্পাদক, জুলাই আন্দোলনে আহত আবু জাফরকে যুগ্ম সদস্য সচিব থেকে সাধারণ সদস্য এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের জেলা দপ্তর সম্পাদক মোস্তফা কামাল অপুকে এনসিপির দপ্তর সম্পাদক, সদর উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি তাজেল ইসলামকে যুগ্ম সদস্য সচিব, জেলা সাধারণ সম্পাদক কলিমুল্লাহ ইউসুফকে যুগ্ম আহ্বায়ক, জহিরুল ইসলাম বাবুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা অর্থ সম্পাদক ফেরদাউস আরা জান্নাতকে এনসিপির অর্থ সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ইমরান এবং জামায়াতের নেতা আলতাফ হোসেন শেখকে যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে। বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেনও সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন। যদিও তাকে এনসিপির জেলা কমিটিতে রাখার বিষয়ে প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, গণ অধিকার পরিষদের বর্তমান জেলা কমিটির প্রায় ২৫ জন নেতা নতুন এনসিপি জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এদিকে বর্তমান কমিটিতে স্থান পাননি সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম নাঈম, পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে এনসিপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শামিম হামীদী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মোল্লা, সাবেক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ও হাফিজুর রহমান।
পদবঞ্চিত নেতা মাহবুবুল আলম নাঈম অভিযোগ করে বলেন, আয়ারল্যান্ডপ্রবাসী আহমেদ রিয়াজ ও ব্রুনাইপ্রবাসী নাজমুল ইসলামের প্রভাবে আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির পূর্ববর্তী কমিটির তথ্য গোপন করে নতুন কমিটি গঠন করেছেন। এ বিষয়ে তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পিরোজপুর জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আল আমিন খান বলেন, "বর্তমান ঘোষিত কমিটি নিয়ম মেনে করা হয়নি। কেন্দ্রকে ভুল তথ্য দিয়ে এই কমিটি অনুমোদন করানো হয়েছে। পূর্বের কমিটির নেতাদের কেউই এ বিষয়ে জানতেন না। সারজিস আলমও জানিয়েছেন, পিরোজপুরে আগে একটি কমিটি ছিল—এ তথ্য তার জানা ছিল না। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপির পিরোজপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব মাইনুল আহসান মুন্না বলেন, "আগের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ওই কমিটির কার্যক্রম সন্তোষজনক না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি ছয় মাসের জন্য নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। আগের কমিটির অধিকাংশ নেতাকেই নতুন কমিটিতে রাখা হয়েছে। তবে দুই-একজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বাদ দিয়েছে কিন্তু তারা এখনও সাধারণ সদস্য হিসেবে আছে। তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বিষয় বিবেচনা করবেন"
নবগঠিত জেলা আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির গতকাল শনিবার রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, "কয়েক মাস আগে পিরোজপুরের একটি রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রায় ৫০ জন এনসিপিতে যোগ দেন। আমি তাদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠিয়েছি। কেন্দ্রীয় কমিটি যাদের উপযুক্ত মনে করেছে, তাদেরই কমিটিতে স্থান দিয়েছে। এ কমিটি গঠনে আমার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই। কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত কমিটি আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









