সারাদেশের মতো পাবনাতেও টানা কয়েক দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝেমধ্যে ভারী বর্ষণে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কাজের অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নিম্ন আয়ের হাজারো মানুষ।
রবিবার (১২ জুলাই) মাঝরাত থেকে পাবনায় দফায় দফায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আব্দুল হামিদ রোড, ট্রাফিক মোড়, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় জীবিকার তাগিদে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষদের দীর্ঘ সময় যাত্রী ও ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে।
শহরের এক রিকশাচালক আক্ষেপ করে বলেন, "সকাল থেকে বৃষ্টিতে ভিজে রিকশা চালাচ্ছি। কিন্তু রাস্তায় মানুষই নেই। অন্যদিন এই সময়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়, আজ এখন পর্যন্ত ১০০ টাকাও রোজগার করতে পারিনি। সংসার কীভাবে চলবে, সেই চিন্তায় আছি।"
শুধু জেলা শহর নয়—চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া, ঈশ্বরদী ও সুজানগরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় খেতমজুররা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজও অনেকাংশে বন্ধ থাকায় নির্মাণ শ্রমিকদের আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে। অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়া এবং কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। সরবরাহ কম থাকায় কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসারের ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষ। তাই তাদের জন্য দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে আগামী কয়েক দিন পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









