বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বরিশালের চিকিৎসা অঙ্গন।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন নাগরিক’ ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা ড্যাবের দুই গ্রুপের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বরিশালের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিভাগে স্থবিরতা ও অচলাবস্থা নেমে এসেছে।
রবিবার অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম। মানববন্ধনে মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ড্যাবের একাংশের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম সদ্য পদায়নকৃত পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, গত জুলাই আন্দোলনে পুরোপুরি বিরোধী ভূমিকায় ছিলেন ডা. এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক পদায়ন বাতিল করে জুলাই আন্দোলনের স্বপক্ষের কোনো সৎ ও যোগ্য চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ডা.মনিরুজ্জামানের পক্ষে অনুষ্ঠিত অন্য একটি কর্মসূচির সমালোচনা করে ডা. সেলিম দাবি করেন, ডা. মনিরুজ্জামান নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে নিজের পৈতৃক বাড়ি বাউফল থেকে ভাড়াটে লোক এনে নগরীতে প্রোগ্রাম করাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ভুয়া ড্যাব নেতা পরিচয় দিচ্ছেন। ড্যাবের ভেতর কোনো কোন্দল নেই, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ডা. মনিরুজ্জামানের পদায়নকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ। আন্দোলনের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা ডা. মনিরুজ্জামানকে তার কার্যালয় থেকে বের করে দেন। এর পরদিন ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।
অন্যদিকে, ডা. মনিরুজ্জামানের সমর্থনেও ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর ব্যানারে বরিশালে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই কর্মসূচিতে ড্যাবের সাবেক বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা অংশ নেওয়ায় বিষয়টি ড্যাবের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে স্বাস্থ্য পরিচালকের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবায়। ক্ষুব্ধ চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই পদায়ন বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









