তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরাস্থ বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির জামে মসজিদে পরিবারের উদ্যোগে খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল শেষে পরিবারের সদস্যরা মরহুমের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলে দলে মরহুমের কবরে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের তৃতীয় পুত্র বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং নাতি সাকের কাদের চৌধুরী।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. হালিম, রাউজান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল হুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমদ, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হক, কিউসি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জে. এম. ইকবাল হাসান, উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহজান সাহিল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাদাত মির্জা, সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজ রুবেল, পৌরসভা যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মিলাদ ও কিয়াম শেষে দেশ, জাতি এবং মরহুম এ.কে.এম. ফজলুল কাদের চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা রফিক আহম্মদ ওসমানী।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাউজানসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী ১৯১৯ সালের ২৬ মার্চ রাউজানের গহিরা গ্রামে পিতা খান বাহাদুর আবদুল জব্বার চৌধুরীর ঔরশে ও মাতৃকূল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মহিলা কবি রহিমুন্নেসার পৌত্রী বেগম ফাতেমা খাতুন চৌধুরীর গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালের ১৮ জুলাই তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে স্নাতক শ্রেণীর ছাত্রাবস্থায় কারমাইকেল হোস্টেলে ছাত্র সংসদের ভিপি, পদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের উন্মেষ ঘটে। পরবর্তীতে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে অধ্যায়নকালীন নিখিল ভারত (অল–ইন্ডিয়া) মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে তাঁর নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে।
নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে হলওয়েল মন্যুমেণ্ট উৎখাত আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, ক্রমান্বয়ে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ও মুসলিম স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণের দীর্ঘ পথ–পরিক্রমায় অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে এমএলএ নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের আটটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এবং ১৯৬৩ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হন এবং পদাধিকারবলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (চুয়েট), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি, চট্টগ্রাম মেরিন ফিসারিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









