অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন বলেন, ‘‘সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত জাফর আহমদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন।’’
রায় ঘোষণার সময় জাফর আহমদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের ডবলমুরিং থানায় জাফর আহমদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে চলতি বছরের ৫ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত জাফর আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জাফর আহমদের নামে টেকনাফে জমি ও ব্যাংক হিসাবে অর্থসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদের একটি অংশ তার বৈধ ও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে আসে।
জাফর আহমদ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









