বর্ষার মেঘে আকাশ ঢেকে আছে। কখনো ঝুম বৃষ্টি, কখনো মেঘলা আকাশের নিচে উত্তাল সাগর। বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বালুচরে। সেই ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠেছেন হাজারো পর্যটক। বর্ষার আবহে যেন নতুন রূপে সেজেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার সকাল থেকেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, শৈবাল ও কলাতলী পয়েন্ট। কেউ সাগরের ঢেউয়ে শরীর ভেজাচ্ছেন, কেউ বালুচরে বসে উপভোগ করছেন বর্ষার সৌন্দর্য। কেউবা ঘোড়ায় চড়ে কিংবা ক্যামেরায় বন্দি করছেন ভ্রমণের স্মরণীয় মুহূর্ত।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের অনেকেই ছুটছেন পাহাড়, ঝাউবন ও দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের পথে। বর্ষার সবুজ প্রকৃতি, মেঘলা আকাশ ও উত্তাল সাগর মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে এবারের কক্সবাজার ভ্রমণ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এটি আমার পঞ্চমবার কক্সবাজারে আসা। প্রতিবারই সৈকতে ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা নিয়েছি। এবারও দারুণ উপভোগ করছি। কক্সবাজারের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ।
রাজশাহী থেকে ভ্রমণে আসা শাহীন দেলোয়ার নামের আরেক পর্যটক বলেন, বর্ষার কক্সবাজারের অনুভূতিই অন্যরকম। গরমের তীব্রতা নেই, রোদে সানবার্নের ঝুঁকিও কম। মনোরম আবহাওয়ায় সমুদ্রসৈকত ঘুরে বেশ উপভোগ করছি।
মিরপুর থেকে আগত পর্যটক মুজিবুর রহমান বলেন, আমার কাছে শীতের চেয়ে বর্ষার কক্সবাজার বেশি ভালো লাগে। এ সময় পর্যটকের চাপ তুলনামূলক কম থাকে। হোটেলেও সহজে থাকা যায়, পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও মন ভরে উপভোগ করা যায়।
তবে বর্ষার সৌন্দর্যের পাশাপাশি উত্তাল সাগর নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে লাইফগার্ড কর্মীরা। টানা বৃষ্টির কারণে সাগরে বেড়েছে ঢেউয়ের পরিধি। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট বা ক্যানেল। কোথাও কোথাও বালুচরে তৈরি হয়েছে খাল ও গুপ্ত গর্ত। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা।
পর্যটন বিশ্লেষক আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, সমুদ্রসৈকতে রেড ফ্ল্যাগ উত্তোলন করা হয়েছে। এর অর্থ হলো সমুদ্রে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ পানিতে নামলে হাঁটুপানির বেশি গভীরে না যাওয়ার এবং অবশ্যই লাইফগার্ডের নজরদারির মধ্যে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিরাপদ থাকার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কাজ। অনেকেই সতর্কবার্তা মেনে চলেন, আবার কেউ কেউ তা উপেক্ষা করেন। তারপরও আমরা সবাইকে সতর্ক করে যাচ্ছি। সচেতনতাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, সকাল থেকেই টানা বৃষ্টির কারণে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল। বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট তৈরি হয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোল টিম, উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত লাইফগার্ডরা সৈকত ও পানিতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে বর্ষা মৌসুমকে পর্যটনের অফ-সিজন হিসেবে ধরা হলেও পর্যটক টানতে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্টগুলো। অনেক প্রতিষ্ঠানেই সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে।
তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নূর সোমেল বলেন, বর্ষাকালে কক্সবাজারের সৌন্দর্য ভিন্ন রূপ ধারণ করে। বৃষ্টি, উত্তাল সমুদ্র ও সবুজ পাহাড় মিলিয়ে প্রকৃতি এ সময় অনন্য সৌন্দর্য তৈরি করে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক করতে আমাদের হোটেলে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অতিথিদের নিরাপদ ও আরামদায়ক অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক তানভীর ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









