গাজীপুরে দীর্ঘদিন ধরেই চলমান প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সংগ্রহের জন্য শত শত সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিনের এই গ্যাস সংকট তাদের জীবিকা নির্বাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। দিনের উল্লেখযোগ্য সময় স্টেশনের লাইনে কাটাতে হওয়ায় যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাচ্ছে। এতে আগের তুলনায় আয় কমে গেছে, অথচ সংসারের ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। অনেক চালক জানান, প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গ্যাস না পেলে পরিবারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
একজন সিএনজি চালক বলেন, ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস নিতে পারিনি। এভাবে প্রতিদিন সময় নষ্ট হলে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও। সড়কে সিএনজি অটোরিকশা ও রেন্ট-এ-কারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গণপরিবহনে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। অফিসগামী চাকরিজীবী, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে যানবাহন পেতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই সময়মতো কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিনই নগরজীবনে দুর্ভোগ বাড়ছে। পরিবহন সংকটের পাশাপাশি যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাচ্ছেন না। ফলে চালকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









