নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে সংঘটিত প্রবাসী বাড়িতে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি, গৃহকর্তা শাহজাহান হত্যা এবং একাধিক সশস্ত্র ডাকাতির মূল রহস্য উদঘাটন করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত সংঘবদ্ধ পেশাদার ডাকাত চক্রের ৭ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সন্ধ্যায় নরসিংদীর মাধবদী থানায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— সদর উপজেলার মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার হাসান আলীর ছেলে জুবায়ের হোসেন (২০), একই ইউনিয়নের খড়িয়া উত্তরপাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে আশিক আহমেদ (২৩), আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোজাহিদ রহমান অপু (২২), মো. ইসলামউদ্দিনের ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৫), পাইকারচর ইউনিয়নের চরভাষানিয়া গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে মো. ফারুক মিয়া (৩০), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার যুগাইদা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে রোমান (২৮) এবং রূপগঞ্জ থানার আমলাপুর গ্রামের হানিফ সরদারের ছেলে মো. হৃদয় মিয়া (২২)।
জেলা পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জুলাই ভোররাতে মাধবদী থানার নূরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে প্রবাসী মিলন মিয়ার বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতদের প্রতিরোধ করতে গেলে তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিলন মিয়ার বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) নিহত হন এবং তাঁর চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হন। এ সময় ডাকাত দল গৃহস্থের ১ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই মাধবদী থানায় একটি ডাকাতি ও হত্যা মামলা (মামলা নং-২৩) দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই মাধবদী থানা ও ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মাথায় ডাকাত চক্রটিকে শনাক্ত করে তাদের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যা ও ডাকাতির দায় স্বীকার করেছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি জুবায়েরের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং আশিক ও সুজনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন পেশাদার অপরাধী। তারা এর আগে গত ১১ জুলাই কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকায় সংঘটিত ডাকাতি এবং ৩০ জুন পাইকারচর ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায় সংঘটিত আলোচিত 'দিগন্ত হত্যা' মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল ফারুক বলেন, "কোনো অপরাধীই পার পাবে না। অপরাধীদের গ্রেফতার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ এবং ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









