পুলিশী বাঁধায় হবিগঞ্জ শহরে ঢুকতে পারেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। অবশেষে বাহুবলের একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করেই তাদের মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে ফিরে যেতে হয়েছে।
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ৪ ঘণ্টা যান চলাচল কার্যত বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজারো যাত্রী। বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আগের দিনের হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পর রাত ৯টার দিকে এনসিপি নেতারা ফিরে গেলে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বুধবার দলটির শীর্ষ নেতারা পুনরায় হবিগঞ্জে আসার ঘোষণা দেন। একই সময়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিলে সংঘাত এড়াতে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
বুধবার বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। প্রথমে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এবং পরে বাহুবলের রশিদপুর এলাকায় পুলিশ তাদের বহর আটকে দেয়। এ সময় নেতাদের সাথে পুলিশের দীর্ঘ সময় বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা চলে।
একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে মরদেহবাহী গাড়ি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা স্বজনহারা পরিবার ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানালেও, তারা মামলা দায়ের না করে ফিরবেন না বলে অনড় থাকেন। পরবর্তীতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের হস্তক্ষেপে সমঝোতার ভিত্তিতে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত প্রায় ১০০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ গ্রহণের পর নেতারা মৌলভীবাজারে ফিরে যান।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান শেষে সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন এবং একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









