‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দুই দিনের ঝটিকা সফরে সিলেটে আসছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জেলার পাঁচটি উপজেলায় গণসংযোগ, পদযাত্রা ও গণসমাবেশে অংশ নেবেন তারা। তবে সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং পরবর্তী উত্তেজনার জেরে এসব কর্মসূচি ঘিরে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এনসিপি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় কানাইঘাট এবং সন্ধ্যা ৬টায় ওসমানীনগরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ, সন্ধ্যা ৬টায় গোয়াইনঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় জৈন্তাপুরে গণসংযোগ ও গণসমাবেশে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সফরকালে তারা জুলাই আন্দোলনে সিলেটের গোলাপগঞ্জের ৭ শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, এবং প্রধান সমন্বয়ক নাসীর উদ্দীন পাটোয়ারী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে ছাত্রদল ও এনসিপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিলেট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জুনেদ আহমদ বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে চান।
অন্যদিকে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার বলেন, তারা আদর্শিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন এবং সংঘাত চান না। তবে কেউ হিংসাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনসিপির নেতারা দায়িত্বশীল বক্তব্য দেবেন।
এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক এদিনকে বলেন, এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ।
এদিকে হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৯ জুলাই) দলটি সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। পাল্টা কর্মসূচির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে যাওয়ার চেষ্টা করলে শ্রীমঙ্গলের ‘চা কন্যা’ এলাকা, রশিদপুর গ্যাসফিল্ডসহ কয়েকটি স্থানে পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। দীর্ঘ বাগবিতণ্ডা ও অবস্থান কর্মসূচির পর রাত আটটার দিকে কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপির নেতারা।
এনসিপির দাবি, মঙ্গলবার হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, এনসিপির নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই স্থানীয় ছাত্র-জনতা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং এ ঘটনায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।
এর আগে, বুধবার (২৯ জুলাই) সিলেটে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. জুনেদ আহমদ সব রাজনৈতিক দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন সাংবিধানিক অধিকার। সাম্প্রতিক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি এবং ৩০ ও ৩১ জুলাই সিলেটে এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এর দায় প্রশাসন ও সরকারকে বহন করতে হবে বলেও তিনি দাবি করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









