সুন্দরবনে প্রবেশের চলমান নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বনের বিভিন্ন খালে কীটনাশক (বিষ) প্রয়োগের মাধ্যমে আহরিত চিংড়ি মাছ আগুনের তাপে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরির চক্রগুলোর অপতৎপরতা থামছেই না।
সুন্দরবনে প্রবেশে চলমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এধরনের অপরাধীদের বেশ কয়েকটি আঁকড়া ধ্বংস করা হয়েছে বলে বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়া এলাকার গভীর বনে অভিযান চালায় বনরক্ষীরা। তারা ধ্বংস করেন তিনটি অবৈধ শুঁটকির মাচা (টংঘর)। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় তিন বস্তা চিংড়ি শুঁটকি, পাঁচ বস্তা তাজা চিংড়ি, দুটি জেলে নৌকা, দুটি টুনা জাল, দুই লিটার কীটনাশক, তিন বস্তা চালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।তবে এই অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেননি বনরক্ষীরা।
বন বিভাগ জানিয়েছে, বনের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে শুঁটকি তৈরির গোপন সংবাদ পেয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে অভিযান নামেন বনরক্ষীরা। তারা চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির আওতাধীন কাগা খাল, ইন্দুরকানী খাল ও হরমাল খাল এলাকায় অবৈধ শুঁটকি তৈরির মাচাগুলো শনাক্ত করেন।
এসময় বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে হরমাল খালের মাথায় একটি টংঘর থেকে দুই বস্তা চিংড়ি শুঁটকি এবং মাচায় বিছিয়ে রাখা পাঁচ বস্তা তাজা চিংড়ি উদ্ধার করে শুঁটকি মাচাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।
একই অভিযানে কাঁকড়া আহরণের ৯৫টি অবৈধ চারু (বাঁশের তৈরি খাচা) এবং একটি নৌকাও জব্দ করেন বনরক্ষীরা। নৌকায় থাকা জেলেরা বনরক্ষীদের দেখে নদীতে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যাওয়ায় এঘটনায়ও কাউকে আটক করা যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বললেন, বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুর্গম এলাকায় বিষ প্রয়োগে ধরা চিংড়ির শুঁটকি তৈরি করছিল। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও বন অপরাধীদের দমন করতে টহল জোরদার করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









