কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে মো. হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পান্টি বাজারের ‘হাবিবুল্লাহ স্টিল ফার্নিচার’ নামের প্রতিষ্ঠান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত হাবিবুল্লাহ পান্টি গ্রামের গোলাবাড়ি বাজার এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের মেজো ছেলে।
নিখোঁজের চার দিন পর আজ শনিবার সকালে থানা পুলিশ স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিলেন এবং সম্প্রতি আদম ব্যবসা কারবারের সাথে যুক্ত হয়ে নানা আইনি ও আর্থিক জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত থেকে হাবিবুল্লাহকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। তবে রহস্যজনকভাবে এই কয়েকদিন ধরে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি চালু ছিল। শনিবার সকালে পান্টি বাজারের ওই স্টিল ফার্নিচারের দোকানের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা দোকানের ভেতরে আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় হাবিবুল্লাহর অর্ধগলিত দেহ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন।
জানা গেছে, হাবিবুল্লাহ দীর্ঘ কয়েক বছর সিঙ্গাপুরে কর্মরত ছিলেন। কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে তিনি পান্টি বাজারে স্টিল ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন। এর পাশাপাশি তিনি এলাকার তরুণদের বিদেশে পাঠানোর কাজ (আদম ব্যবসা) শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবসা চালাতে গিয়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি বেশ কিছু দিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার একমাত্র কন্যাসন্তান রয়েছে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও সন্তান ঝিনাইদহে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফলে বাড়িতেও কেউ না থাকার সুযোগে এই ঘটনা ঘটেছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজের পরপরই কোনো একদিন এই ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশটি বেশ কয়েকদিনের পুরোনো হওয়ায় পচন ধরতে শুরু করেছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









