‘বিজয়ের মানসিকতা নিয়ে বহুদূর যেতে চায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পাচ্ছি, তা সত্যিই অসাধারণ। বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এটি আমার মায়ের দেশ, তাই পরিবারের সবাই অনেক গর্বিত।’
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির মাঠে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের নতুন মুখ ও ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে যশোরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল। স্থানীয় প্রতিভার সঙ্গে প্রবাসী ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া দলটির লক্ষ্য বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে ২০২৭ সালে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। সেই লক্ষ্যেই শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে চলছে আবাসিক ক্যাম্প ও নিবিড় অনুশীলন।
দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এখন নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি কৌশলগত দিকগুলো আরো শাণিত করছেন তরুণ ফুটবলাররা। অনুশীলনের পাশাপাশি ইতোমধ্যে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে দল। এসব ম্যাচে শারীরিক সক্ষমতা, বল দখল, চাপের মধ্যে খেলা এবং ভিন্ন কৌশলের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন খেলোয়াড়রা।
দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট প্রধান কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। অনুশীলন ক্যাম্প ছিল বেশ নিবিড়। দলের নিজস্ব খেলার ধরন, বল দখলে রাখা, প্রেসিং ও কাউন্টার-প্রেসিংয়ের ওপর আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। ফিটনেসের পাশাপাশি কৌশলগত বিষয় নিয়েও কাজ হয়েছে। চারটি প্রীতি ম্যাচ থেকে খেলোয়াড়রা চাপ সামলানো এবং শারীরিকভাবে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা পেয়েছে। খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের মধ্যে জয়ের মানসিকতা রয়েছে। দেশকে গর্বিত করতে আমরা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব।’
শুধু এবারের বাছাইপর্ব নয়, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্যও খেলোয়াড় তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান কোচ। দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে দলের ফুটবলারদের মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রবাসে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদেরও নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নতুন মুখ অ্যাডাম আব্বাসকে নিয়েও আশাবাদী কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স। তিনি বলেন, ‘অ্যাডাম একজন পেশাদার, বিনয়ী এবং শেখার ব্যাপারে আগ্রহী ফুটবলার। তাকে এমন পজিশনে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তার সেরাটা বের করে আনা সম্ভব হবে। সে সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি গোল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যাডাম আব্বাসও। তিনি বলেন, ‘এখানে এসে ফুটবল খেলতে পেরে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এটি আমার মায়ের দেশ, তাই পরিবারের সবাই অনেক গর্বিত। আমি দ্রুত মাঠে নেমে খেলতে চাই।’
বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোবাসায় মুগ্ধ অ্যাডাম বলেন, মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তা তার কাছে অবিশ্বাস্য। এই সমর্থনের জন্য তিনি সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
১৯ বছর বয়সী অ্যাডাম আব্বাস ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তার মূল পজিশন রাইট উইঙ্গার। তবে প্রয়োজন হলে সেন্টার ফরোয়ার্ড কিংবা নম্বর নাইন হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি। এর আগে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বার্নলির যুব পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ফলে তার অন্তর্ভুক্তিতে দলের আক্রমণভাগে বাড়তি গতি ও বিকল্প তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে রয়েছেন পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলার। তাদের মধ্যে ইংল্যান্ডপ্রবাসী ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফও রয়েছেন। রক্ষণভাগে তার উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের। ইঙ্কিম মানিকসহ আরও কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার রয়েছেন দলের সঙ্গে।
স্থানীয় ও প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যেও দ্রুত বোঝাপড়া তৈরি হচ্ছে। নতুনদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে স্থানীয় খেলোয়াড়রা সহযোগিতা করছেন। অনুশীলনে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের পাশাপাশি দলীয় সমন্বয়ও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যশোরের অনুশীলন মাঠের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কথা বলেন কোচ। তার মতে, সুযোগ-সুবিধা হয়তো প্রত্যাশিত মানের নয়। তবে কোনো প্রতিকূলতাকেই নেতিবাচকভাবে দেখছেন না তিনি। বরং সীমাবদ্ধতার মধ্যেই খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনা, ভারসাম্য ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর সুযোগ দেখছেন।
বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে এখনো খেলার সুযোগ হয়নি। ফলে এবারের বাছাইপর্ব বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়, নতুন ইতিহাস গড়ারও সুযোগ। বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারলে সেটি হবে দেশের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের বড় অর্জন।
সেই লক্ষ্যেই যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন তরুণ ফুটবলাররা। স্থানীয় প্রতিভা, প্রবাসী ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা এবং কোচের জয়ের মানসিকতা মিলিয়ে এবার ভালো কিছু করার প্রত্যাশা দলের। এখন মাঠের প্রস্তুতি প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে কতটা কাজে আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









