পাবনার ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সুজন (২৫) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দোকানটিই ছিল তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। একই ঘটনায় পাশের গুদামে থাকা দুই পাট ব্যবসায়ীর প্রায় চার লাখ টাকার পাটও পুড়ে গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে জন্তিহার গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে হঠাৎ সুজনের দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের গুদামে থাকা লালচাঁদ ও খায়রুলের পাটে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ২টার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত সুজন জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার দোকানের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দোকানটি হারিয়ে পরিবার নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অন্যদিকে পাট ব্যবসায়ী লালচাঁদ ও খায়রুল দাবি করেন, তাদের গুদামে থাকা প্রায় চার লাখ টাকার পাট আগুনে পুড়ে গেছে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ ফারুক হোসেন জানান, রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে রাত ২টার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোকানে পাট ও গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বি.এল বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম আবু শুবাইর হেলাল বলেন, সুজনের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল দোকানটি। অগ্নিকাণ্ডে দোকানটি হারিয়ে পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। সুজনের দোকানটি পুনরায় চালু করতে প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সমাজসেবীদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









