শ্রেণিকক্ষের চার দেয়াল থেকে বের হয়ে টিফিনের সময় একটু দৌড়ঝাঁপ কিংবা খেলায় মেতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার হাজার হাজার শিশু শিক্ষার্থী। উপজেলার ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিংহভাগেই নেই নির্দিষ্ট কোনো খেলার মাঠ। কোথাও নামমাত্র জমি থাকলেও তা খেলাধুলার অনুপযোগী। ফলে উপজেলার প্রায় ২১ হাজার ৭০০ কোমলমতি শিক্ষার্থী শৈশবের স্বাভাবিক বিনোদন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, খেলার স্থান না থাকায় টিফিনের বিরতিতে বাধ্য হয়েই শিশুদের ক্লাসরুমে অলস সময় কাটাতে হয়। এটি তাদের শারীরিক গড়ন ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই রয়েছে ব্যস্ত সড়ক বা গভীর পুকুর। সীমানা প্রাচীর ও খেলার পরিবেশ না থাকায় বাইরে বের হয়ে শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় থাকা ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বড় অংশেই সুনির্দিষ্ট মাঠ নেই। ফলে নিজস্ব খেলাধুলা তো থমকে আছেই, এমনকি আন্তঃবিদ্যালয় বা উপজেলা পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষ শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানের ভবনের চারপাশে ন্যূনতম খালি জায়গাও নেই। আবার কোথাও বিদ্যালয়ের কোল ঘেঁষে বিপজ্জনক জলাশয় বা গড়ি চলাচলের রাস্তা থাকায় শিশুদের খেলাধুলার নিরাপদ পরিবেশ অনুপস্থিত।
উপজেলার ৫৬ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। নিজস্ব মাঠ না থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তার ধারে ঘোরাঘুরি করে, ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী আদনান আল আহনাফ জানায়, “স্কুলে মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় ক্লাসে বসেই কাটাতে হয়। বাইরে রাস্তা থাকায় ভয় লাগে।”
৮৭ নম্বর মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুকুরের একেবারে কিনারে অবস্থিত। সাঁতার না জানা ছোট ছোট শিশুদের জন্য এই পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বলেন, “পর্যাপ্ত জমি না থাকায় আমরা মাঠ তৈরি করতে পারছি না। অথচ শিশুদের মানসিক বিকাশে মাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।”
এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা বলছেন, কেবল কথার কথা নয়; অনতিবিলম্বে জরিপ চালিয়ে যেসব স্কুলে মাঠ নেই তা চিহ্নিত করা দরকার। সরকারি খাসজমি বা অব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত শিশুদের খেলার ব্যবস্থা করা না গেলে এক বিরাট জনগোষ্ঠী শৈশবের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, জমি সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং সমাধানের জন্য লিখিত আবেদন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী জানান, আমি নতুন এসেছি। এখনো সুনির্দিষ্ট তালিকা এখনো পাননি, তবে যেসব স্কুলে মাঠের জায়গা আছে সেগুলোকে দ্রত খেলার উপযোগী করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল আশ্বাস দিয়ে বলেন,ইউনিয়নের যে সকল বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেখানে নতুন করে মাঠ তৈরির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









