সকালটা শুরু হোক অ্যালার্মের তাড়া ছাড়া। হাতে ফোন না রেখে কিংবা কাজের তালিকা পাশে না রেখে এক কাপ চা নিয়ে নিরিবিলি বসা, পছন্দের সিনেমা দেখা অথবা খোলা আকাশের নিচে হাঁটাহাঁটি—আজকের দিনটি হতে পারে নিজের জন্য। কারণ ১৫ আগস্ট পালিত হয় জাতীয় বিশ্রাম দিবস বা ন্যাশনাল রিল্যাক্সেশন ডে।
কাজ, পরিবার, অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব মিলিয়ে প্রতিদিনের জীবন যেন অবিরাম ছুটে চলছে। ব্যস্ততার কারণে বিশ্রাম নেওয়ার সময়টিও অনেক সময় ‘পরে’ করার সিদ্ধান্তে আটকে থাকে। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই শরীর ও মনকে কিছুটা সময় দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় এই দিনটি।
যেভাবে শুরু হয়েছিল দিনটি
জাতীয় বিশ্রাম দিবসের ধারণার সূচনা হয় ১৯৮৫ সালে। এর উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ৯ বছর বয়সী শিশু শন মোলার। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি এমন একটি দিনের প্রস্তাব দেন, যেদিন মানুষ ‘বাস্তব কাজ’ থেকে বিরত থাকবে। তার মতে, কাজ করা কিংবা ঘর পরিষ্কার করাও বিশ্রামের অংশ নয়।
পরবর্তী সময়ে সেই শিশুসুলভ ভাবনাই একটি বিশেষ দিবসে পরিণত হয়। ২০১৬ সাল থেকে মোলার প্রতি বছর বিশ্রাম নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেওয়া একজনকে স্বীকৃতিও দিয়ে আসছেন।
নিজের মতো করে কাটান দিনটি
বিশ্রামের ধরন সবার জন্য এক নয়। কারও কাছে বই পড়া আনন্দের, আবার কারও কাছে সিনেমা দেখা বা ঘুরতে যাওয়া বেশি স্বস্তিদায়ক। তাই এ দিন নিজের কাছে যে কাজটি সবচেয়ে প্রশান্তির, সেটিই করতে পারেন।
সকালে একটু বেশি ঘুমানো, পছন্দের সিনেমা দেখা, বিকেলে হাঁটাহাঁটি, সাঁতার কিংবা বাগান করার মতো কাজে সময় দেওয়া যেতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বাইরে খেতে যাওয়া, ছবি তোলা, পিকনিক কিংবা বই পড়াও হতে পারে দিনের অংশ।
প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে শহরের কোলাহল থেকে দূরে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। সমুদ্রসৈকতে হাঁটা, গ্রামের পথে ঘুরে বেড়ানো কিংবা খোলা আকাশের নিচে সূর্যাস্ত দেখাও হতে পারে প্রশান্তির উপলক্ষ।
নিতে পারেন ডিজিটাল বিরতি
বিশ্রামের দিনে কিছু সময় ফোন, কম্পিউটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকা যেতে পারে। জরুরি যোগাযোগের বাইরে নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে কয়েক ঘণ্টার জন্য ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বিরতি নিলে মনকে কিছুটা নির্ভার করার সুযোগ মিলতে পারে।
ঘরেও তৈরি করুন প্রশান্তির পরিবেশ
বিশ্রামের জন্য সবসময় বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের ঘরটিকেও আরামদায়ক করে তোলা যায়। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে, ঘর পরিচ্ছন্ন রেখে, নরম আলো, পছন্দের সংগীত কিংবা ঘরের গাছ দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে শান্ত পরিবেশ।
জাতীয় বিশ্রাম দিবসের মূল বার্তা হলো—সবসময় ব্যস্ত থাকাই জীবনের নিয়ম নয়। দায়িত্ব ও কাজের পাশাপাশি নিজের শরীর ও মনের জন্যও সময় প্রয়োজন। তাই আজকের দিনটিতে কিছুটা থামুন, নিজের পছন্দের কিছু করুন এবং ব্যস্ত জীবনের বাইরে নিজেকে একটু সময় দিন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









