জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে রঘুনাথপুর দিঘুলী ‘পশ্চিমপাড়া’ গ্রামের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল মাঠে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্প্রসারণের কারণে গ্রামটি চারপাশ থেকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গ্রামের প্রায় ১৫৫টি পরিবারের প্রায় ৫০০ মানুষ যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রঘুনাথপুর দিঘুলী পশ্চিমপাড়া জামালপুরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে গ্রামটি রেখে চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলে গ্রামবাসীরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াত, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাসেবা, শিশুদের স্কুলে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারছেন না। শত বছরের পৈতৃক ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আতঙ্কে শিশু, বৃদ্ধসহ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে মানসিক চাপও তৈরি হয়েছে।
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা ও যুব সংগঠক, সূর্য তোরণ সমাজ সেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী মো. খোরশেদ আলম। এছাড়া জামালপুর সদর উপজেলার ১৪ নম্বর দিগপাইত ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাহাদ হোসেন, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. রঞ্জু মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা দাবি জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্বার্থে যদি গ্রামটি সরিয়ে নেওয়া বা অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন হয়, তাহলে আগে প্রতিটি পরিবারের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে পৈতৃক ভিটেমাটি ও কৃষিজমির জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া পুনর্বাসন ও বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমপাড়া গ্রামের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়ন প্রয়োজনীয় হলেও এর কারণে কোনো জনগোষ্ঠীকে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য করা উচিত নয়। উন্নয়ন ও মানুষের বসবাসের অধিকার—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিষয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, সরকার ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল এগিয়ে যাক—এটি তাদেরও প্রত্যাশা। তবে সেই উন্নয়নের মূল্য যেন শত বছরের পুরোনো একটি জনপদের মানুষের জীবন ও বসতভিটা দিয়ে দিতে না হয়। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









