সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলার সংযোগস্থল সড়কটি ভেঙে গভীর নালায় রূপ নিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে সড়কটি বেহাল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পড়ে থাকলেও দেখার কেউ নেই। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে নিজেদের পকেটের টাকায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যাতায়াত সচল রেখেছেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্ভোগের শিকার হওয়া এই সড়কটি জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের রসুলগঞ্জ, লামা রসুলগঞ্জ, লাউতলা এবং ছাতক উপজেলার জিগলী বরাটুকা এলাকাকে সংযুক্ত করেছে। বহু বছর আগে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের কিছুদিন পরই এটি বিভিন্ন অংশে ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর আর কোনো সরকারি সংস্কার কাজ হয়নি।
সময়ের সাথে সাথে বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতায় সড়কের একাংশ ধসে গিয়ে খালের মতো গভীর নালায় পরিণত হয়েছে। যে সড়ক দিয়ে নিয়মিত যানবাহন চলাচল করার কথা, সেখানে এখন স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাওয়াও একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগী বহন এবং কৃষি পণ্য পরিবহন একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। বহু আবেদন-নিবেদনের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো সমাধান মেলেনি।
অবশেষ উপায় না পেয়ে নিজেদের চাঁদার টাকায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন গ্রামবাসীরা। বর্তমানে ভাঙা সড়কের নালা পার হওয়ার জন্য এই সাঁকোটিই গ্রামের মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং বৃদ্ধদের একমাত্র ভরসা। ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বিপজ্জনক সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকার ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও লাউতলা বাজার ব্যবসায়ী শফি আহমদ বলেন, যে রাস্তায় গাড়ি চলার কথা, সেখানে এখন সাঁকো দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। পানির কারণে রাস্তা ধসে নালা হয়ে গেছে। সরকারের কোনো লোক এই রাস্তার খবর নেয় না। আমরা চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো বানিয়েছি, না হলে তো ঘরেই বন্দি হয়ে থাকতে হতো।
লামা রসুলগঞ্জ এলাকার কৃষক ছুরত মিয়া জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করাও এখন দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাউতলা এলাকার সমাজসেবক সুমন মিয়া বলেন, জিগলী বাজারে যাওয়ার আগের ব্রিজ পর্যন্ত জগন্নাথপুর উপজেলার সীমানা। যে জায়গায় রাস্তা ভেঙে সাঁকো দেওয়া হয়েছে, সেটি জগন্নাথপুর উপজেলার ভেতরেই। কিন্তু এটি দেখার যেন কেউ নেই।
পাটলি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আংগুর মিয়া জানান, আমি এবং এলাকার মানুষ মিলে অনেকবার এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করছেন না।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সোহরাব হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এটি জগন্নাথপুর উপজেলার বাইরে এবং ছাতক উপজেলায় পড়েছে, যার কারণে এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কিছু নেই।
দুই উপজেলার সীমানা জটিলতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় রাস্তাটি যেন সরকারি উন্নয়ন কাজের মানচিত্রের বাইরেই রয়ে গেছে। অবহেলিত এই এলাকার জনভোগান্তি নিরসনে অনতিবিলম্বে সড়কটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









