হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল অপসারণ করায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে সংস্কারকাজের সময় ম্যুরালটি অপসারণ করা হলেও কার নির্দেশে বা কার দায়িত্বে এটি সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ম্যুরালটি অপসারনের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা সৃষ্টি হয়।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বরে প্রায় ১০ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে জাতীয় চার নেতা, তাজউদ্দীন আহমদ। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানের ছবি সংবলিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তাদের স্মৃতিবিজড়িত ম্যুরাল অপসারণের বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় ম্যুরালটি স্থাপন করেছিল। এখন সরকারের নির্দেশে সেটি সরানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। আমরা এ ধরনের কাজকে সমর্থন করি না।”
ম্যুরাল অপসারণের বিষয়ে মাধবপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভালো বলতে পারবেন। ম্যুরাল অপসারণের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জারু মিয়া বলেন, গত ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আযম খান মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের বেহাল দশা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর চত্বরের সংস্কারকাজ ও স্পিডবলের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ ত্বরান্বিত হয়। বর্তমানে সেখানে জাতীয় চার নেতার পরিবর্তে ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর নাম ও ছবি সংযুক্ত করে নতুন ম্যুরাল নির্মাণের কথা শোনা যাচ্ছে।
তবে বর্তমান মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে ওই ম্যুরাল অপসারণ করা হয়নি। নতুন ম্যুরাল তৈরির ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”
এদিকে জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ম্যুরাল অপসারণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা এই ধরনের কর্মকান্ডকে সমর্থন করে কিনা। তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সম্মান এবং লালন করে কিনা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









