ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা দূর করতে সরকার টু সরকার পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবসায়ী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের ইছামতি সম্মেলন কক্ষে আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত মাসে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার দায়িত্বে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল রয়েছে। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলের কার্যক্রম ও সীমাবদ্ধতা দেখতে তিনি এসেছেন। তিনি বলেন, যশোরের এই বেনাপোলটা হচ্ছে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থলবন্দর এবং এখানে রেভিনিউতে একটা বড় ভূমিকা রাখছে। আমি জাস্ট দেখার জন্য আসলাম যে এখানে কতটুকু কী সীমাবদ্ধতা আছে। যারা ব্যবসায়ী আছে বা এখানকার যারা কাস্টমস কর্মকর্তা আছেন, দুই পক্ষের কথা শুনে আমরা হয়তো একটা চেষ্টা করব যে একটা সমাধানে আসার জন্য।
বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে বেশি রাজস্ব এলে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের প্রতিটি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারসাম্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে ইন্ডিয়ার সাথে দেখা যাচ্ছে আমাদের একটা বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা আছে। তো সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি সরকার টু সরকার পর্যায়ে। বেনাপোলের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানতে হবে। এরপর প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দুই বছর আগে কেন করেছে, কী হয়েছে সেগুলো আমাদের জানতে হবে। তারপর আমরা চেষ্টা করব এই প্রতিবন্ধকতাকে দূর করার জন্য, যাতে এই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ে এবং এখানে যারা ব্যবসায়ী আছে তারাও যেন উপকৃত হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেরা নাজমুল মুন্নী এমপি, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু, যুবদল নেতা ইমদাদুল হক ইমদা, পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিমুদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদসহ উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া বেনাপোল কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, রাজস্ব আদায়, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং কাস্টমস কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে ‘চলো করি বৃক্ষরোপণ, গড়ে তুলি সবুজ ভুবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বেনাপোল পৌর বিএনপির ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শন ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেরা নাজমুল মুন্নী এমপি।
বেনাপোল পৌর বিএনপির উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষা ও বেনাপোলকে সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন মাসে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং সড়কের পাশে ফলজ, ভেষজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









