জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ ফুটের বেশি সীমানাপ্রাচীর এবং প্রাঙ্গণের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মসজিদ ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা এবং কার নির্দেশে বা অনুমতিতে এই সরকারি স্থাপনাগুলো ভাঙল এবং মালামাল কোথায় সরিয়ে নেওয়া হলো, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঠিক তার আগের রাতেই বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও পাঞ্জেগানা মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর ও মসজিদ রাতের আধারে ভাঙতে শ্রমিক, সরঞ্জাম ও পরিবহনের প্রয়োজন হয়েছে। অথচ ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না। মসজিদে থাকা আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ধর্মীয় সামগ্রীসহ ভাঙা দেয়ালের ইট ও নির্মাণসামগ্রী কোথায় বা কারা সরিয়ে নিয়েছে—এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন্নেসা বলেন, "কে বা কারা প্রাচীর ও মসজিদটি ভেঙে নিয়ে গেছে, তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সাক্ষীর অভাবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।"
সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও ধর্মীয় স্থাপনা রাতের আঁধারে ধ্বংসের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









