চট্টগ্রামে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরো বছরে আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক চলতি মাসের ২৫ দিনে। পুরো বছরে মৃত্যুর ৭৩ শতাংশও এই সময়ে। চট্টগ্রামে পুরো বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৮ জন। আর চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ জন।
প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চলতি বছরে সর্বমোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৮৫ জন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৬ জন।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চলতি বছর আক্রান্তের মধ্যে ১ হাজার ৮০৯ জন নগরের। নগরীর বাইরে উপজেলা পর্যায়ে আক্রান্ত অপেক্ষাকৃত কম ১ হাজার ৭২৯ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়— গত জুন মাসে চট্টগ্রাম নগরে ও পরে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, প্রাপ্ত লার্ভার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক ‘এডিস ইজিপ্টাই’ এবং ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ‘এডিস অ্যালবোপিকটাস’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়ার বাহক বলে মন্তব্য করেছেন কীটতত্ত্ববিদেরা। সে হিসেবে এডিস ইজিপ্টাইয়ের লার্ভা বেশি পাওয়া গেলে সেখানে ডেঙ্গু সংক্রমণ এবং এডিস অ্যালবোপিকটাসের লার্ভা বেশি পাওয়া গেলে সেখানে চিকুনগুনিয়ারও ঝুঁকি থাকে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ‘‘প্রতিটি নাগরিককে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলেই কেবলমাত্র ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। জ্বর হলে সময়মত ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তাহলে সঠিক চিকিৎসা ও নিরাময় সহজ হয়।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









