ফরিদপুরে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির (৪৭) হত্যার আড়াই মাস পার হলেও রহস্য উদ্ঘাটন ও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও আসামিদের গ্রেপ্তারসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের স্ত্রী বেদেনা আক্তার। এ সময় তার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মেয়ে ইলমা আক্তারসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই বাড়ির অদূরের একটি পাটখেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইউসুফকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তার স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন তিনি। এতে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম আজমকে প্রধান আসামি করা হয়। তার দুই ছেলে রাব্বী বেপারী ও রবিন বেপারীকেও আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেদেনা আক্তার অভিযোগ করেন, ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইউসুফের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যার আগে আসামিদের সঙ্গে তার স্বামীর বাগ্বিতণ্ডাও হয়। মামলা তুলে নিতে তাঁকেসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম আজম বলেন, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ইউসুফের পরিবারের সঙ্গে তাঁর পূর্ববিরোধ ছিল। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, থানায় দায়ের করা মামলাটি দেড় মাস আগে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের মামলাটিও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









