সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ৬৩টি পূজামণ্ডপে উদ্যাপিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে ৫৮টি সর্বজনীন ও ৫টি পারিবারিক। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও পূজা উদ্যাপন পরিষদ।
পূজামণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও অগ্নিনিরাপত্তায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের ভিড়, যানজট ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও মণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ মোতায়েন, টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কোনো পূজামণ্ডপ নেই। তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
গোলাপগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আকরামুল ইসলাম বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সদস্যদের ছুটি বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার জন্য পূজা উদ্যাপন পরিষদকে বলা হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র রায় বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত উদ্যোগে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। তবে নিরাপত্তার প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি, বাস্তবায়ন ও পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









