সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আলোকসজ্জা, সুসজ্জিত প্যান্ডেল ও বর্ণিল আয়োজনে ৭১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপ ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কৃষ্ণ পদ মণ্ডল জানান, চলতি বছর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৭১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। গতবার ৭০টি মণ্ডপে পূজা হলেও এবার নতুন করে ৪টি মণ্ডপ যুক্ত হয়েছে এবং আগের ৩টি বাদ পড়েছে।
এবারের দুর্গাপূজায় উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছে নানা ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এর মধ্যে আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী টানেলের আদলে টানেল তৈরি করে দেবী দুর্গার প্রতিমা দর্শন, হরিনগর বাজার সর্বজনীন দুর্গা মণ্ডপে ডিজিটাল লাইটিং ও ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির সজ্জা, সোনাখালী ভৈরবনগর মণ্ডপে আধুনিক আলোকসজ্জা ও চলন্ত প্রতিমা প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটখালী দক্ষিণপাড়া মণ্ডপে ভারতের আসামের ভৈরবী মন্দিরের অনুকরণে প্যান্ডেল এবং দয়ালচাঁদ সেবাশ্রম দক্ষিণ বড় কুপট মন্দিরে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের মুক্তেশ্বর মন্দিরের অনুকরণে ২৪ ফুট দীর্ঘ নৃসিংহ অবতারের মাঝে চিত্ররূপা প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। নওয়াবেঁকী বড়কুপট সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরেও তৈরি করা হয়েছে নবদুর্গা।
উপজেলার বৃহৎ মণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে নকিপুর হরিতলা সর্বজনীন দুর্গা পূজা মণ্ডপ, আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির, হরিনগর বাজার, মধ্য কুলতলী, নওয়াবেঁকী, কুপট বৈদ্য বাড়ি ও মন্দিরঘাট, ধূমঘাট শীলতলা এবং ভেটখালী দক্ষিণপাড়া দুর্গা পূজা মণ্ডপ। পূজা উপলক্ষে এসব মণ্ডপে ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিকল্প বিদ্যুৎ ও জেনারেটর ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রতিটি মণ্ডপে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুরোহিত হরপ্রসাদ জানান, গত ১৬ অক্টোবর বোধন ও পূজার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়েছে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোতে বইছে আনন্দের আমেজ। বিশেষ করে স্থানীয় কাপড়ের বাজারগুলোতে নতুন পোশাক কেনাকাটায় ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









