গাছের ডালে ডালে ঝুলছে পাতিল, আর সেই পানি পান করলেই নাকি সেরে যাবে সব রোগ—এমন এক অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাস ও অন্ধবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে নাটোরের নলডাঙ্গায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের বাঁশিলা উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশিলা উত্তরপাড়া গ্রামে একটি ডুমুর গাছের কাটা ডাল থেকে চুইয়ে পড়া পানি পান করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ওই এলাকার একটি ডুমুর গাছের ডাল কাটার পর সেখান থেকে রস বা পানির মতো তরল ঝরতে শুরু করে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কে বা কারা সেখানে পাতিল বেঁধে দেন এবং দাবি করতে থাকেন যে, ওই পানি পান করলে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মেলে। এরপর থেকেই প্রতিদিন সেখানে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে।
দূরদূরান্ত থেকে আসা লোকজনের মুখে নানা অলৌকিক কথার প্রচার দেখা যায়। কেউ বলছেন লোকমুখে শুনে এসেছেন, আবার কেউ দাবি করছেন সেই পানি পিয়েই তাঁরা শারীরিক জটিলতা ও ব্যথা থেকে উপশম পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম অমি, রায়হান মিনা, সুলতান খান ও সেকেন্দার জানান, ডুমুর গাছের ডাল কাটার পর আঠার পরিবর্তে রস বা পানির মতো তরল বের হতে দেখে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। বর্তমানে দিনে প্রায় দুই হাঁড়ি করে এই পানি জমা হয় এবং গাছের মালিকের বাড়ি থেকে তা সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, এই পানি পানে হাঁটু বা শরীরের ব্যথা সেরে গেছে।
তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জুনায়েদ আহমেদ লেনিন বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মানুষের অন্ধবিশ্বাস বা ভ্রান্ত ধারণা। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কিংবা ভিত্তি নেই যে, গাছের এই পানি পান করলে রোগব্যাধি ভালো হয়ে যায়।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বেশি খারাপের দিকে গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সচেতন মহল মনে করছেন, ডুমুর গাছের পানি নিয়ে এই অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দ্রুত বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









