প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। কিভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে।”
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত আখচাষিদের মাঝে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ শেষে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যে দুটি নদীতে আমরা ব্যারেজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হবে আমরা চেষ্টা করবো ততদূর যেতে। বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসবো এবং একই সাথে আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সম্ভব হয় সেই সময়ের মধ্যে আমরা এই পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষ করব ইনশাআল্লাহ।”
একটি পক্ষ পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ফ্যাসিস্টদের সাথে এক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ফ্যাসিস্টদের কাছে একটি পক্ষ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। নির্বাচন আসার আগে যারা মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল জনগণের কাছে, তারা এবং পলাতক ফ্যাসিস্ট এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।”
জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হবার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাই, আজ থেকেই আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে বাংলাদেশের যে অর্থনীতি, মানুষের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।’’
সরকার দেশের বন্ধ কল-কারখানা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন,“আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে বন্ধ কল-কারখানাগুলো চালু করা যায়। যারা বিদেশি উদ্যোক্তা আছে, তাদেরকে বিদেশ থেকে নিয়ে এসে উৎসাহ দিচ্ছি যে আপনারা আসেন, বাংলাদেশে আপনারা বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে আপনারা বন্ধ মিল-কারখানাগুলোকে চালু করেন যাতে করে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে যেতে পারে, যাতে করে বাংলাদেশের বেকার শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা চাচ্ছি পাটকলগুলো চালু হোক, আমরা চাচ্ছি বিভিন্ন মিল-কারখানাগুলো চালু হোক, আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবাটা পৌঁছে দেওয়া হোক। কিন্তু কতগুলো রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি তৈরি করার মাধ্যমে জনগণের এই কাজগুলোকে, সরকারের এই কাজগুলোকে তারা স্লো করে দিতে চাইছে। তাদের থেকে সাবধান থাকবেন।”
এর আগে প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় কম্পিউটারে বোতাম টিপে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন কৃষকের ১২ কোটি টাকা প্রদান করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









