পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ ১৯ জেলার তিন ভাগের এক ভাগ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে কারিগরি বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘দেশ ও জনগণের স্বার্থেই এ মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’’
পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় এরকম একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এটা একটা মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প। এটা আমাদের জন্য একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ‘‘এরই মধ্যে প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পের টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই প্রকল্পটিকে শেষ করতে আমরা সর্বমোট এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছি ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্পটি আমাদেরকে শেষ করতে হবে।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘যিনি আমাদের প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশের তিন ভাগের এক ভাগ জনগোষ্ঠী অর্থাৎ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবে। এই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।’’
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘‘নদীপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে।’’
প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদের বক্তব্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা ও সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের পানি নির্ভরতা-সংক্রান্ত সংকট কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, ব্যারেজের ৭৮টি গেটের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গেটগুলো পরিচালনার মাধ্যমে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা কতটা বাড়বে, তা প্রকল্পের কারিগরি নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।
প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ব্যারেজ নির্মিত হলে বছরের প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও প্রকল্পটি সুফল বয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য পরিমাণ ও রূপপুর কেন্দ্রের সঙ্গে প্রকল্পটির কার্যকরী সম্পর্ক সম্পর্কে বিস্তারিত কারিগরি তথ্য প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাবনাসহ ১৯ জেলার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কৃষি ও সেচের উন্নতি, পানি ব্যবস্থাপনায় সুবিধা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, পরিবেশগত প্রভাব এবং পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপর।
সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









