মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োজিত সাধারণ কর্মচারী এবং কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা ৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে তারা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) অসহযোগিতা ও অর্থ ছাড় না করার কারণে টানা পাঁচ মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্য ও কর্মীরা।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছেন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি কতৃক নিয়োজিত ৪০ জন সিপিজি সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। তাঁরা দৈনিক রুটিন অনুযায়ী দিন-রাত বনের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দেন। বিনিময়ে তাঁদের দৈনিক ৩০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে সেই সামান্য ভাতাও বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী সদস্যদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.আবুল কালাম বর্তমান সহ- ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ‘অবৈধথ আখ্যা দিয়ে অর্থ ছাড় বন্ধ রেখেছেন। ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্য ও কর্মীদের ওপর।তাঁরা আরও জানান, দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবেও সনাতন ধর্মাবলম্বী সিপিজি সদস্যরা কোনো উৎসব ভাতা কিংবা বকেয়া পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁদের পারিবারিক সংকট আরও বেড়েছে।পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনা, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এসব বন টহল দলের সদস্যরা। জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি নিয়ে বন পাহারা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সিপিজি সদস্য বাবুল মিয়া জানান, আকস্মিক এই সংকটে ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সদস্য সুনীল ও অরুন বলেন, বেতনের অভাবে দুর্গাপূজা অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে চলবেন—সেই দুশ্চিন্তায় তারা এখন বড় বিপাকে আছেন। তাই দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরও আগের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সিপিজি সদস্য ও কর্মীদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভাতা বন্ধ থাকার বিষয়ে লাউয়াছড়া বনের নারী সিপিজি টহল দলের সদস্য বেগম বিবি, রায়না বেগম, পারভীন বেগম এবং পুরুষ সদস্য অরুণ নায়েক, ফজল মিয়া ও শানুর মিয়াসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুন থেকে তারা ভাতা পাচ্ছেন না। কবে প্রাপ্য অর্থ পাওয়া যাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
তারা বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে ভাতা না পেলেও বন পাহারার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এতে তাদের পরিবারগুলো আর্থিক দুরবস্থায় পড়েছে। কমিটি নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। তারা দরিদ্র মানুষ। অন্তত চারটি ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ চান।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের বেতন পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে নতুন কমিটি আসবে। ইতোমধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রক্রিয়ায় আছে। অতীতেও কয়েক মাসের বেতন আটকা পড়েছিল পরে একসঙ্গে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









