বাদল একদিন ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ একটি সূর্যমুখী ফুলের ছবি দেওয়া প্রোফাইলে চোখ আটকে গেল। প্রোফাইলের নাম—মনিরা খাতুন।
সূর্যমুখী দেখে বাদলের মনে হলো, ফুল যখন এত সুন্দর, মানুষটা না জানি কত সুন্দর! কৌতূহল সামলাতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিল।
দুই দিন পর রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট হলো। বাদলের মনে হলো, জীবনে এই প্রথম কোনো পরীক্ষায় পড়াশোনা ছাড়াই পাস করল!
কিছুক্ষণ পর মেসেজ এল—
— হাই, কোত্থেকে বলছেন?
বাদল একটু ভদ্র হয়ে লিখল—
— বগুড়া থেকে। আপনি?
— ফরিদপুর।
ব্যস! প্রথম দিনের কথোপকথন শেষ।
কয়েক দিন পর বাদল আবার মেসেজ দিল—
— হায়, মনিরা!
সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই এল—
— হেলো, বাদল?
— কেমন আছেন, আপু?
— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনি?
— আমিও ভালো। ব্যক্তিগত জীবনে কী করেন?
— অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। আপনি?
— আমিও অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি।
বাদল একটু সাহস করে বলল—
— তাহলে তো আমরা বন্ধু হতে পারি!
মনিরা লিখল—
— তা তো হওয়াই যায়। আমরা তো এমনিতেই বন্ধু। ফেসবুক বন্ধু। এখন হলাম ক্লাস বন্ধু!
সেদিন থেকেই শুরু হলো চ্যাটিং। প্রথমে দিনে একবার, তারপর দুবার, তারপর ঘণ্টায় ঘণ্টায়। একসময় এমন অবস্থা হলো—বাদল বই খুলে মোবাইলের দিকে তাকায়, আবার মোবাইল খুলে বইয়ের দিকে তাকায়!
মনিরাকে একদিন বলল—
— আপনার একটা ছবি দেখতে পারি?
— হ্যাঁ, পারেন ।
বলেই একটা ছবি পাঠিয়ে দিল মনিরা।
ছবি দেখে বাদলের চোখ কপালে উঠল। সে লিখল—
— আপনি তো অনেক সুন্দর! একেবারে নায়িকাদের মতো।
মনিরা খুশি হয়ে জানতে চাইল—
— কোন নায়িকার মতো?
বাদল একটু ভেবে লিখল—
— শাবনূরের মতো।
মনিরা খুশি। বাদলও খুশি। দুজনেই বুঝল, প্রেমের বাজারে প্রথম বিনিয়োগ সফল হয়েছে।
এরপর বাদলের ছবিও চাওয়া হলো। বাদল একসঙ্গে কয়েকটি ছবি পাঠিয়ে দিল। শুরু হলো ছবি দেওয়া-নেওয়া। মনিরা বলল
— আপনি অনেক সুন্দর।
বাদল বলল
— আপনি আরও সুন্দর।
দুজনের কথাবার্তা দেখে মনে হলো, পৃথিবীতে আয়না আবিষ্কারের পর এতবার কেউ নিজের চেহারা নিয়ে একবারও দেখেনি।
দিন গড়াতে লাগল। চ্যাটিং না করলে দুজনেরই অস্থির লাগে। পড়াশোনায় মন বসে না, ঘুম আসে না। মোবাইলের নোটিফিকেশন না বাজলে মনে হয়, জীবনটাই বুঝি থেমে গেছে।
একদিন মনিরা লিখল—
— আপনার সঙ্গে চ্যাটিং না করলে ভালো লাগে না।
বাদল সুযোগ বুঝে বলল—
— আমারও। কিছুই ভালো লাগে না। শুধু আপনাকেই মনে পড়ে।
মনিরা লিখল—
— সে তো আমারও একই অবস্থা। আমরা কি তাহলে প্রেমে পড়ে গেলাম?
বাদল আর দেরি করল না—
— আমারও তাই মনে হয়। আসলে আমি আপনাকে কবে থেকে ভালোবেসে ফেলেছি, বলতে পারিনি। আই লাভ ইউ, মনিরা।
মনিরার উত্তর এল—
— আই লাভ ইউ টু।
ব্যস! ফেসবুক বন্ধুত্ব এবার সরাসরি প্রেমে উন্নীত হলো।
এরপর নিয়মিত ভিডিও কল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখা-দেখি। কথা বলতে বলতে কখনো রাত দুইটা, কখনো তিনটা। একজন বলছে—
— আমাদের বিয়েতে কী কী হবে?
অন্যজন বলছে—
— কয়টা বাচ্চা নেব?
এমনকি বাচ্চাদের নামও ঠিক হয়ে গেল!
একদিন বাদল আবেগ নিয়ে বলল—
— মনিরা, আমাদের ভালোবাসা চিরদিন থাকবে তো?
মনিরা বলল—
— অবশ্যই থাকবে।
বাদল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
— তাহলে একটা কাজ করি।
— কী?
— আগে দেখা করি। তারপর বিয়ে-শাদি, বাচ্চা-কাচ্চা—সব ঠিক করব।
মনিরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে লিখল—
— দেখা করতে সমস্যা নেই। তবে একটা কথা আগে বলি।
— কী কথা?
— আমার প্রোফাইলের সূর্যমুখী ফুলটা কিন্তু আমার ছবি নয়!
বাদল মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রইল।
এতদিন যে সূর্যমুখী দেখে প্রেমে পড়েছিল, সেটাই ছিল আসল নায়ক!
বাদল মাথায় হাত দিয়ে বলল—
— তাহলে এতদিন আমি ফুলের সঙ্গেই প্রেম করলাম?
মনিরা হেসে লিখল—
— প্রেম তো চ্যাটে হয়েছে, ফুলের সঙ্গে নয়!
বাদল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
— ঠিক আছে। তবে দেখা হলে আগে ফুলটাকে একটা সালাম দেব। কারণ ও না থাকলে আমাদের প্রেমটাই তো হতো না!


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









