এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশ করা হবে। এবার ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় পৌনে ১৩ লাখ পরীক্ষার্থী তাদের ফলাফল প্রাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিন বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফল প্রকাশ করবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, অনলাইনে এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, “ফলাফলের প্রকাশ সংক্রান্ত কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করি রাতের ভেতর সব কিছু গুছিয়ে ফেলব।”
ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করা হবে কি না, এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এখন যদি প্রধানমন্ত্রী রাজি থাকেন, তবে অবশ্যই প্রথমে উনার হাতে রেজাল্ট হস্তান্তর করা হবে। এরপর আমরা ব্রিফিং করব।”
চলতি বছর ২ জুলাই দেশজুড়ে ২ হাজার ৬৯৭ কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হয়। এতে অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে পাশের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
এ বছর পাশের হার কেমন হতে পারে, জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “এখন সঠিকভাবে এর ধারণা দেওয়া ঠিক হবে না। ফলাফল সব কিছু গোছানোর পর কিছুটা ধারণা করা যেতে পারে। অপেক্ষা করতে হবে।”
টেনশন কাজ করছে-
শনিবার সকাল ১১টায় এইচএসসির ফলের অপেক্ষার অবসান ঘটবে শিক্ষার্থীদের। এ অবস্থায় তাদের মধ্যে আনন্দের সঙ্গে উদ্বেগও কাজ করছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের কমার্সের ছাত্র লবাইত ইসলাম বলেন, “ফলাফল যেন সম্মানজনক হয়, তাতেই বাঁচি।”
তিনি বলেন, “সত্যি বলতে অ্যাকাউন্টিং যেমন-তেমন হলেও ইংরেজি নিয়ে মনের ভেতর মারাত্মক টেনশন কাজ করছে। শুধু এটুকুই মনে হচ্ছে, যাই আসুক রেজাল্টটা যেন অন্তত সম্মানজনক হয়।”
দিনাজপুর আদর্শ কলেজ মানবিকের ছাত্র মো. লিমন ইসলাম বলেন, “ভয় হচ্ছে আবার এক্সাইটমেন্টও কাজ করছে। আমার ভয় শুধু ইংরেজিতে, আর বাকি তেমন কিছুতে ভয় নেই।
“বাকি বিষয়গুলোর এমসিকিউ খুব ভালো দিয়েছি। বাসায় এসে মিলিয়ে দেখেছি যে, মোটামুটি আমার উত্তর দাগানোগুলো সঠিক হয়েছে। এখন বলতে গেলে ভয় আর এক্সাইটমেন্ট দুটোই একসঙ্গে কাজ করছে। বাকিটা কালকেই বোঝা যাবে।”
রাজধানীর নবাব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শাল ম্রং বলেন, “কালকে রেজাল্ট এখন আসলে দুই ধরনের মনোভাব কাজ করে। এক ভয়, আরেক আনন্দ।
“আমাদের তো কিছু কিছু বিষয়ের প্রশ্ন ভুল ছিল। যেমন- পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নে শুনেছি সেগুলোতে নাকি নম্বর দিবে, তবে জানি না কেমন কী হবে।”
অপেক্ষায় অভিভাবকরাও-
ছেলের ফলাফল নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত ঢাকার নর্দা কালাচাঁদপুরের বাসিন্দা দীপিকা।
তিনি বলেন, “কালকেই দেখা যাবে। পরীক্ষার সময় এত করে বললাম ঠিক মত পড়তে, অথচ তেমন পড়াশোনাই করতে দেখলাম না।
“জানি না কেমন রেজাল্ট হবে। এবার শুনলাম সরকার খুব কড়াভাবে পরীক্ষা নিয়েছে। জানি না পাস করতে পারবে কি না।”
“অভিভাবক হিসেবে কিছুটা টেনশনতো থাকেই,” বলেন গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর অভিভাবক সুভয় রাংসা।
তার কথায়, “আমার মেয়ে গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। জানি না কেমন ফল হবে। তবে আমি কখনই চাপ সৃষ্টি করিনি শুধু পরীক্ষা চলাকালে যেন ঠিকমত পড়াশোনা করে সেজন্য কিছুটা বলেছি। এর বেশি কিছু না।
“পাস কিংবা ফেইল যাই-ই করুক না কেনো দুটোই মেনে নেব।”
যেভাবে ফল জানা যাবে-
প্রতিবারের মত এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, অনলাইনে এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।
বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষার্থীরা https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইএন দিয়ে ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে।
পরীক্ষার্থীরা যেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল দেখতে পারবেন।
এর জন্য HSC লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের তিন অক্ষরের নাম, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আবার স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখতে হবে। এরপর ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
যেমন- HSC Dha 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন-
ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
এর জন্য https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘বোর্ড ড্রপ ডাউন’ থেকে বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। যুক্ত করতে হবে ফোন নম্বর, যাতে এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল।
পরীক্ষার্থীরা এক বা একাধিক বিষয়ে ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। দুই পত্র রয়েছে এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।
ফি প্রদানের ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ, ডিবিবিএল, রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
অকৃতকার্যদের কী হবে-
চলতি বছর যারা উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবেন, তাদের ফল প্রকাশের ২ মাসের মধ্যেই আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল ফল প্রকাশের পর জানানো হবে। সেখানেই পরীক্ষার্থীরা জানতে পারবেন কীভাবে সেটি করতে পারবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









