চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বিএনপির নিজ দলের লোকদেরই খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়, চাকরির প্রলোভনে ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডারবাজি এবং ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্রসফায়ার দিতে হলে এসব অপরাধে জড়িতদেরই দিতে হবে। আর তাদের মধ্যে বিএনপির নিজ দলের লোকজনই থাকবেন।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে নিরাপত্তাহীনতা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দলীয়করণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ময়মনসিংহে সাথী আক্তার নামে এক নারী বিএনপিকে ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে ফেসবুক লাইভ করার পর পুলিশ তাঁকে বাসা থেকে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবাদ করলেই পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।
কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেও তরুণেরা চাকরি পাচ্ছেন না। জাপান থেকে এক লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এমন চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের প্রতি মানুষের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণ আবার রাজপথে নামবে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও দলীয়করণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার অভিযোগ, সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পিএসসি, নির্বাচন কমিশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, সরকার পরিবর্তনের আগে দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা বলা হলেও দলীয় কোন্দল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তিনি বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নির্বাচনে কারচুপি হলে তা স্পষ্টভাবে বলতে হবে। আপসকামিতার রাজনীতি পরিহার করে সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, তাই তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে রাজনীতিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
জ্বালানি তেলের দাম ও সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানাগুলো চাঁদাবাজির কারণে সংকটে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দিতে সরকারকে এ মাসেও পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সহযোগিতা ছাড়া সরকার সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না। রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিতে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জনে বিরোধী দলকে এখন থেকেই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









