গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতি নদীর ভাঙনে কয়েকটি বসতবাড়ির রান্নাঘর ও বাথরুম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এবার হুমকির মুখে পড়েছে মূল বসতঘরও। একই সঙ্গে বালাডাঙ্গা ব্রিজের পিলারের কাছাকাছি নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় সেতুটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার পাশের পাঁচকাহনিয়া এলাকায় বালাডাঙ্গা ব্রিজের উত্তর পাশে মধুমতি নদীর তীরে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়ির রান্নাঘর ও বাথরুম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন মূল বসতঘরগুলোও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদী ক্রমেই লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরের পরিবারগুলো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শীত মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার পর থেকে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বেড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা। চোখের সামনে ঘরবাড়ির অংশবিশেষ নদীতে বিলীন হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমন শেখ বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমাদের বসতঘর নদীতে ভেঙে যাবে। পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
স্থানীয় সিএনজিচালক আকাশ বলেন, “এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হবে। যেভাবে ব্রিজের পিলারের কাছে ভাঙন শুরু হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রিজটি ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া না হলে একদিকে কয়েকটি পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়স্থল বসতভিটা হারাবে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়তে পারে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ বালাডাঙ্গা ব্রিজ। তাই বসতবাড়ি ও সেতু রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









