ফরিদপুরের মধুখালীতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর তিন দিন আগে ধারণ করা ভিডিওতে তিন যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে সে। পরিবারের দাবি, ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর দেড় মাস চিকিৎসাধীন থেকে গত ২৬ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। তবে ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক তদন্তে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত কিশোরী মিথিলা আক্তার মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের হান্নান শেখের মেয়ে।
সোমবার (২ নভেম্বর) তার বাবা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক মিথিলাকে তুলে নিয়ে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মধুমতি নদীর নির্জন এলাকায় ধর্ষণ করে। পরে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির বাথরুমে গিয়ে হারপিক পান করলে প্রথমে মাগুরা ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়। প্রায় দেড় মাস অসুস্থ থাকার পর বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর তিন দিন আগে ধারণ করা ভিডিওতে মিথিলা রাফি শেখ, রাহুল শেখ ও সায়মন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে। এ ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগ তোলে তার মামাতো ভাই সোহাগ শেখের বিরুদ্ধে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময়ও ওই কিশোরী ধর্ষণের কথা জানায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় জানান, আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাটি মাগুরার শ্রীপুর থানা এলাকায় ঘটেছিল। মৃত্যুর পর মরদেহের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









