রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

তাঁতশিল্পের গলার কাঁটা এখন ট্রানজিট সংকট

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

তাঁতশিল্পের গলার কাঁটা এখন ট্রানজিট সংকট

বছরজুড়ে ঈদ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাই রোজার ঈদকে সামনে রেখে এবারো জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাঁতে তৈরি কাপড়ের হাটগুলো। সারা বছরের চেয়ে ঈদের এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাতেঁর বাজারে বেড়ে গেছে দেশের পাইকারদের আনা গোনা। তবে আগে দেশের পাইকারদের পাশাপাশি বিদেশী পাইকারদের আনা গোনাও ছিলো চোখে পরার মতো। কিন্ত চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের কাপরের হাটে দেখা নেই বিদেশী পাইকারদের। যে কারনে চাহিদা মতো তাঁতের তৈরি কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁত মালিকরা। যদিও তারা ক্রেতাদের চাহিদার বিবেচনা করে শাড়ী, লুঙ্গী ও থ্রি-পিচে এনেছে নতুনত্য ডিজাইন।

 তাঁতিরা বলছেন দেশে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশী পাইকাররা আসতে পারছেনা। যে কারনে দেশের তৈরি তাঁতের কাপড় বিদেশে রপ্তানী করতে পারছেন না তারা। তাই এবারের ঈদে তাতের বাজারে বড় ধরনের লোকশান আসতে পারে বলে দাবি তাঁত মালিকদের।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন দেশীয় তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে ট্রানজিটের নামে আগ্রাসনকে রুখতে না পারলে দেশীয় এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে ।

বেলকুচি তামাই গ্রামের তাঁত মালিক মোহাম্মাদ আলী বলেন, রোজার ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারো প্রচুর পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেছি।বিভিন্ন হাটে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি।ক্রেতা ও পাইকারদের আনোগোনা খুবই কম দেখতে পাচ্ছি। আগে দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারীভাবে শাড়ি লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেতো এ বছর তেমন সাড়া পাচ্ছি না। 

উপজেলার চালা গ্রামের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম বলেন, সারা বছর ব্যবসা তেমন ভালো যায় না। প্রতিবছর রোজার ঈদে প্রচুর বেচাকেনা হয়ে থাকে কিন্তু এ বছর কাপড় বেচাকেনার চাহিদা কম কারণ পাইকার কম।বিদেশী পাইকার ব্যবসায়ী হাটে আসছে না।

বেলকুচি সোহাগপুর হাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী শমসের আলী,প্রতিবছর রোজার এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরিকৃত তাঁতের সকল কাপড় বিক্রি হয়ে যায় কিন্তু এ বছর ব্যবসা তেমন ভালো যাচ্ছে না।এ বছর হাটে দেশীয় পাইকার থাকলে বেদেশী পাইকার নাই বললেই চলে। তাই কাপড় কেনাবেচাও কম হচ্ছে। ট্রানজিট সুবিধা না থাকার কারণে বাইরের পাইকাররা আসতে পারছে না।

সোহাগপুর হাটে কাপড় কিনতে আসা পাইকার ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন শেখ বলেন, কোন ঝামেলা ছাড়াই চাহিদা মতো কাপড় কিনেছি। এর আগে হাঁটে দেশি বিদেশী পাইকারদের ব্যাপক আনাগোনা ছিল কিন্তু এ বছর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তাই হাটে আসা দেশীর পাইকাররা কাপড় কিনতে পেরে অনেক খুশি। 

বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাটের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে দেশের দুর দুরান্ত থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছে সোহাপুর কাপরে হাটে। ক্রেতাদের চাহিদা পুরণে তাঁতের তৈরি শাড়ী, লুঙ্গী ও থ্রি-পিচে আনা হয়েছে নতুনত্য ডিজাইন। তবে বর্তমানে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে পাইকারা আসলেও বিদেশী পাইকার না থাকায় তেমন একটা কেনা বেচা নেই। এ ব্যপারে সরকারের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। 

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন,তাঁত কাপড়ের হাটে যেন কেউ হয়রানীর যেন স্বীকার না হয় এজন্য নজরদারি থাকবে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী  এই তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সেই সাথে গ্রামীন অর্থনীতিকে আরো বেগবান ও সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রানজিটের বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।  

আর বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, হাটে কিছু অব্যবস্থাপনা আছে এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি সকল অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠে ব্যবসায়ীদের জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারবো। ট্রানজিটের বিষয়ে উদ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে। 

কাওছার আল হাবীব/এদিন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.