বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

জামদানি পল্লীতে কারিগরদের ঈদের ব্যস্ততা

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০২ পিএম

আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ পিএম

জামদানি পল্লীতে কারিগরদের ঈদের ব্যস্ততা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামদানি পল্লীগুলোতে শাড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগর ও শিল্পীরা। কেউ কাপড়ে সুতা তুলছেন, কেউ সুতা রঙ করছেন, কেউ শাড়ি বুঁনছেন, আবার কেউ শাড়িতে নকশার কাজ করছেন। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার ক্রেতারাও ভিড় জমাচ্ছে পল্লী এলাকাগুলোতে। ঈদকে ঘিরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের হাঁকডাকে এবার কারখানার মালিক ও কারিগরদের চোখেমুখে যেন হাসি উঁকিঝুঁকি মারছে।

ঈদের আগেই শাড়ি বাজারে তোলার জন্য জামদানি পল্লীতে চলছে বাড়তি কাজের চাপ এবং ফরিয়া, মহাজন ও খুচরা ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। জামদানি তৈরিতে জড়িত মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর, সাদিপুর ও কাঁচপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪৫টি গ্রামে ছয় শতাধিক পরিবার জামদানি শাড়ি তৈরিতে জড়িত। বর্তমানে এ পেশায় নিয়োজিত কারিগরদের মধ্যে ৭০ ভাগ নারী আর ৩০ ভাগ পুরুষ। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকী, বারগাঁও, কাজিপাড়া, শিংলাব, আন্দারমানিক, জামপুর ইউনিয়নের হাতুড়াপাড়া, তালতলা ও কাঁচপুর ইউনিয়নের সুখেরটেক ও বেহাকৈর গ্রামে জামদানির কারিগররা শাড়ি বুনন করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পাইকারদের হাতে তুলে দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। 

কাজিপাড়া গ্রামের জামদানি কারিগর আবু তাহের জানান, সারা বছরের মধ্যে রমজান মাসে ঈদের আগে ও বৈশাখী উৎসবের সময় তারা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটান। এ সময়ে শৌখিন ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো নকশা করা শাড়ি কয়েক মাস আগেই অর্ডার করে থাকেন, তাই যেকোনো মূল্যে ঈদের আগেই তৈরি করা শাড়ি ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতে হয়। বিশেষ করে ঈদে এ শাড়ির চাহিদা বেশি থাকার কারণে অনেক কারিগর সারা বছরই এ শাড়ি তৈরি করে মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় ঘরে মজুদ রাখেন।

জামদানি কারিগর মিনা বেগম জানান, প্রতিটি শাড়ি তারা ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। একটি শাড়ি তৈরিতে নকশার প্রকারভেদে এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগে।

ঈদ সামনে রেখে এসব গ্রামের তাঁতি পরিবারগুলো এতটাই ব্যস্ত সময় পার করছে যেন একটু ফিরে তাকানোর সময় নেই তাদের। তাঁতগুলোতে নারী ও পুরুষ সমানতালে কাজ করছেন।

সরেজমিনে সোনারগাঁয়ের বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জামদানি পল্লী ও উপজেলার বিভিন্ন জামদানি পল্লীর মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, এ বছর রমজানের প্রথম থেকেই গত ৪-৫ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ জামদানি বিক্রি হয়েছে। 

তারা জানান, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা এসে অগ্রিম মূল্য দিয়ে নিজেদের পছন্দের শাড়ির কথা জানিয়ে যান। এরপর তাদের চাহিদা অনুযায়ী জামদানি শাড়ি তৈরি করেন।

কবি শাহেদ কায়েস বলেন, বহির্বিশ্বে জামদানি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ভারত ও নেপালসহ অনেক দেশে এই শাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মসলিনের ঐতিহ্য লালন করেছে আমাদের এই জামদানি শাড়ি। ঢাকাই মসলিন শিল্প বিলুপ্ত হলেও এর উত্তরসূরি হিসেবে জামদানি শাড়ি আজও মসলিনের সূক্ষ্মতা ও আভিজাত্যের ঐতিহ্য বহন করে চলছে। মসলিন কারিগরদের বংশধরেরা নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় জামদানি তৈরির মাধ্যমে এই ধারা টিকিয়ে রেখেছেন। 

শাড়ি তৈরির কারিগরদের মজুরি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা জানান, ‘উৎপাদনের ভিত্তিতে শাড়ির প্রকারভেদ অনুযায়ী কারিগরদের মজুরি দিতে হয়। যেমন, ১০ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি তৈরি করতে দুজন কারিগর কাজ করে থাকে। তাদের মজুরি বাবদ ৯ হাজার টাকা দিতে হয়। এ ছাড়াও শাড়ি তৈরিতে নকশার প্রকারভেদে এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগে।’

উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের জামদানি শাড়ি কারখানার মালিক কবির হোসেন জানান, কটন ও রেশমি সুতা দিয়ে পুরোপুরি হাতে তৈরি হয় জামদানি শাড়ির কাপড়। এ জন্য অন্য কাপড়ের তুলনায় জামদানি কাপড়ের দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। বৈশাখী উৎসব, দুই ঈদ ও পূজার মৌসুমে সবচেয়ে বেশি কাজ থাকে। এবারও প্রচুর কাজ পেয়েছি। ধারণা করছি, আশানুরূপ বিক্রি করতে পারব।

সোনারগাঁ জামদানি তাঁতি প্রাথমিক সমিতির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন বলেন, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যবসায়ীরা নানা রঙ-বেরঙের শাড়ি দোকানে তুলেছেন।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচাল কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, জামদানি বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি পল্লীগুলো সোনারগাঁয়ের একটি ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব। এ শিল্পকে আরো প্রসারিত করতে আমরা কাজ করছি।

গাজী মোবারক/নারায়ণগঞ্জ/অই

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.

জামদানি পল্লীতে কারিগরদের ঈদের ব্যস্ততা | The Daily Adin