ঈদের আনন্দ মানেই একটু ঘোরাঘুরি, একটু খোলা বাতাসে নিশ্বাস নেওয়া কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের নদীবিধৌত জেলা পিরোজপুরে বিনোদনের সুযোগ সীমিত। শহর বা উপজেলার মানুষজনের অবসর কাটানোর মতো পর্যাপ্ত পার্ক, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কিংবা আধুনিক বিনোদন স্পট না থাকায় দুটি সেতুই হয়ে উঠেছে প্রধান আকর্ষণ। বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা তরুণ-তরুণীদের ভিড় জমে সদর উপজেলার বলেশ্বর সেতু আর নবনির্মিত অষ্টম বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু, স্থানীয়ভাবে বেকুটিয়া সেতু নামে পরিচিত। বলেশ্বর এবং বেকুটিয়া এই দুটিই এখন জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন এই সেতু দুটিতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কিন্তু বিনোদনের এই মাধ্যমটি মোটেও নিরাপদ নয়। পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের অধীনে ডিসি পার্ক নামে একটি পার্ক থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়া না থাকায় অনেকেই যেতে চান না সেখানে। এখানে কেউ আসে নদীর হাওয়া খেতে, কেউবা সূর্যাস্ত দেখতে, আবার কেউ স্রেফ সময় কাটাতে।
তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পিরোজপুরের এই মহাসড়ক দিয়ে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। অথচ সেই চলন্ত গাড়ির মাঝেই ঝুঁকি নিয়ে সেলফি তোলা আর আড্ডায় মাতছেন দর্শনার্থীরা। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এমনকি প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনাও নতুন কিছু নয়। জেলায় একটি আধুনিক এবং সুরক্ষিত বিনোদন কেন্দ্র থাকলে এই বিশৃঙ্খলা ও ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ঘুরতে আসা হাবিবা আক্তার জানান, পিরোজপুর জেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিকল্পিত বিনোদন কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ কিংবা পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর মতো নিরাপদ জায়গা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয় এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতেই ভিড় করতে।
স্থানীয় রফিকুল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, পিরোজপুরে ঘুরতে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা না থাকায়, বাধ্য হয়েই এই ব্রিজে আসতে হয়। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। পিরোজপুর জেলায় একটি মানসম্মত আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র থাকলে ঈদ আনন্দ আরও কয়েক গুন বেড়ে যেত।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শুধু সেতুর উপর নির্ভরশীল এই বিনোদন সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পিত পার্ক, ওয়াটারফ্রন্ট বা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি।
এদিকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাইদ জানান, পিরোজপুরে বিনোদনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি ড্রোন সার্ভে করা হয়েছে।
পিরোজপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি স্থায়ী বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুললে একদিকে যেমন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে জেলার অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে মনে করছেন পিরোজপুরের বিনোদন প্রেমী জনগণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









