যশোরের এক গ্রাম থেকে উঠে আসা দুই ভাইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা, যেখানে কাগজে-কলমে বদলে গেছে বয়স, সম্পর্ক এবং পরিচয়। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত নাজমুল ইসলাম বড় ভাই মহিদুল ইসলামের চেয়ে দুই বছরের ছোট। কিন্তু রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র, সেখানে নাজমুল ১৩ বছরের বড় মহিদুলের থেকে। অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের হয়েছে অভিযোগ।
অভিযোগে বলা হয়, মহিদুল ইসলাম রেলওয়ের চাকরি পেতে নিজের বয়স প্রায় ১৫ বছর কমিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও শিক্ষাগত সনদে পরিবর্তন এনেছেন। রেলওয়েতে জমা দেওয়া কাগজপত্রে তার জন্ম সাল ১৯৯৬ এবং ঠিকানা নড়াইলের কালিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে তার জন্ম এবং যশোর সদরের এড়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা। সেই হিসেবে নাজমুল ইসলাম তার ছোট ভাই কিন্তু পরিবর্তিত কাগজপত্রে পুরো সম্পর্কটাই বদলে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অষ্টম শ্রেণির সনদপত্র দেখিয়ে মহিদুল ইসলাম চাকরি নিয়েছেন, সেটিও জাল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম আসাদুজ্জামান দুদককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ওই সনদপত্রটি সঠিক নয়। এতে করে ঘটনাটি শুধু বয়স জালিয়াতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগে রূপ নিয়েছে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, এ ধরনের কাগজপত্র পরিবর্তন বা জালিয়াতি একা করা কঠিন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোথাও না কোথাও দুর্বলতা থাকলেই এমন ঘটনা সম্ভব। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে খালাসি নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়, যা এখনও বিচারাধীন। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই প্রথমে মহিদুল ইসলামের শিক্ষাগত সনদ জাল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে মহিদুল ইসলাম বলেন, “নাজমুলই আমার বড় ভাই। কাগজপত্রে কোনো জালিয়াতি করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু মানুষ শত্রুতা করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
এদিকে, নাজমুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা জানি মহিদুল বড় আর নাজমুল ছোট। তবে তারা দুজনই রেলওয়েতে চাকরি করেন। কীভাবে চাকরি হয়েছে বা তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।”
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল পাকশীর ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিএমই) রবিউল ইসলাম বলেন, “জাতীয় পরিচয়পত্র বা সনদ জালিয়াতির কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই নিয়োগ নিয়ে চট্টগ্রামে একটি মামলা চলমান রয়েছে।”
দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “অভিযোগটি আমরা যাচাই-বাছাই করছি। প্রয়োজনীয় অনুমতি পেলে তদন্ত শুরু হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









