পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৯টি হাটবাজার ইজারা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। রেকর্ডসংখ্যক দরপত্রের শিডিউল বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনজন ব্যক্তি কৌশলে ৮টি হাটবাজার ইজারা নিয়েছেন এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, সমঝোতার কথা বলে কৌশলে অন্য দরদাতাদের নিরুৎসাহিত করে স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন তার ঘনিষ্ঠ তিনজনের মাধ্যমে ইজারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তবে কাজী কামাল হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি দরপত্রের শিডিউল ক্রয় করলেও শেষ সময়ে কাউকেই দরপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে শেষ ধাপে সিডিউল ক্রয় করেন- মো. বাদল, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মো. মনিরুল ইসলাম মামুন মোট ২৭টি শিডিউল ক্রয় করে দরপত্র জমা দেন। এতে ৯টি হাটবাজারের মধ্যে ৮টিই তাদের দখলে যায়।
স্বরূপকাঠী পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি ৯টি হাটবাজার ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রথম ধাপে ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯৩টি শিডিউল বিক্রি হয়, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। কিন্তু ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জমাদানের দিনে একটি দরপত্রও জমা পড়েনি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি এবং ৩ মার্চ জমাদানের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কেউ অংশ নেয়নি। এরপর তৃতীয় ধাপে ৯ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি হয় এবং ১৬ মার্চ জমাদানের দিন নির্ধারণ করা হয়। এ দিন ওই তিন ব্যক্তি গোপনে শিডিউল কিনে দরপত্র জমা দেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ৯টি হাটবাজারের মোট ইজারা মূল্য ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ৮৫৯ টাকা। স্থানীয়দের ধারণা, এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা ওই তিন ব্যক্তির পক্ষে কঠিন।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের পেছনে প্রভাবশালী মহলের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র জমা না পড়ায় সরকার সম্ভাব্য বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজ সিকদার বলেন, দরপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পরে কথা বলব।
পৌর বিএনপির সম্পাদক মো. মইনুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে অনেকেই শিডিউল কিনেছিলেন। পরে শুনেছি, দরপত্র জমা না দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের কাজ। প্রথমে প্রতিযোগিতা বন্ধ করে পরে অনুগতদের মাধ্যমে ইজারা নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, কাউকে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমার নামে কোনো ইজারাও নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বরূপকাঠী পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত বলেন, প্রথম ধাপে বিপুলসংখ্যক শিডিউল বিক্রি হলেও একটি দরপত্রও জমা না পড়া অস্বাভাবিক। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ না দিলে প্রশাসনের করার কিছু থাকে না। বিষয়টি আমাদের কাছেও কৌতূহলের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









