খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মো. সুজন সরকারকে (২৮) অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর হরিণটানা থানাধীন কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল ৫টার দিকে স্পেশাল কোম্পানির একটি দল অভিযান চালিয়ে সুজন সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় তার নির্মাণাধীন গোয়ালঘরের সামনে রাখা একটি ইজিবাইকের পুরোনো সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় একটি ব্যাগ থেকে একটি দেশীয় তৈরি শটগান, একটি ওয়ান শ্যুটারগান, পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ও দুই রাউন্ড ৭.৬২ মি.মি. গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সুজন সরকার কথিত ‘হুমা বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য এবং শীর্ষ শ্যুটার হিসেবে পরিচিত। একই বাহিনীর আরেক সদস্য গজাল ঈমনকেও সম্প্রতি দৌলতপুর এলাকায় পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গজাল ঈমন ওরফে ইমন হাওলাদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও হত্যা, অস্ত্র ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে খুলনার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
র্যাবের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সুজন সরকারের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। এছাড়া দ্রুত বিচার আইনের অধীনেও রয়েছে একাধিক মামলা। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আড়ংঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৬ খুলনার কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র ও গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









