নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রিকশাচালক মোহাম্মদ সোহেলের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (২ মে) এ ঘটনায় অভিযুক্ত নুরুল আমিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এর আগে, শুক্রবার দুপুরে দাদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ কাশিপুর গ্রামের ইব্রাহিম চৌকিদার বাড়ির রিকশাচালক মোহাম্মদ সোহেলের বাড়িঘরে এই হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নারী ও শিশু আহত হন।
সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নিজেদের মালিকানাধীন সম্পত্তির ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির নুরুল আমিনের নেতৃত্বে তার ছেলে নিজাম, হৃদয় ও নাতি তুহিনসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরের দরজা-জানালা কুপিয়ে ভেঙে ফেলে এবং আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নারী ও শিশুদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে পরিবারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
এদিকে এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ও ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করতে হামলার ঘটনায় জড়িতরা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে বলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেন এবং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নুরুল আমিন এর মুঠোফোনে কল দিলে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি। ফলে মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শিপন বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।”
সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









