মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে জাল স্বাক্ষরে নিম্নমানের ওষুধ ক্রয়

প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

আপডেট: ০৩ মে ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে জাল স্বাক্ষরে নিম্নমানের ওষুধ ক্রয়

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম, ক্রয় কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং প্রায় কোটি টাকার আর্থিক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। ইডিসিএল বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যে নিম্নমানের ওষুধ ক্রয়, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটি গঠন, তদন্তে বাধা এবং অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাসপাতালের ক্রয় কমিটির সভাপতি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. কায়সার হাসান খান।

রবিবার (৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. কায়সার হাসান খান বলেন, “গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে সরকারি অর্থে পরিচালিত ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ অনিয়ম হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ইডিসিএল বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ দামে নিম্নমানের ওষুধ কেনা হয়েছে এবং পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তার অজ্ঞাতে সম্পন্ন করা হয়েছে।” 

তিনি জানান, নিম্নমানের ওষুধ নিতে আপত্তি জানালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনে রোষানলে পড়েন। তার মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ওই ওষুধ হাসপাতালের স্টোরে মজুতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ করা হয়, মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমতিয়াজ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে জামাল উদ্দিনের সহধর্মিণী, নান্দাইল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ মূল্যায়ন কমিটির কোনো চিঠি বা অফিস আদেশ তিনি পাননি বলে দাবি করেন।

ডা. কায়সারের অভিযোগ, তার নামের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও অর্থ কারচুপির সঙ্গে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, “এসব অনিয়মের বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তদন্ত কমিটি গত ৭ এপ্রিল হাসপাতালে তদন্তে গেলে প্রায় দেড় থেকে দুইশ বহিরাগত লোকজন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে মব সৃষ্টি করে তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।” 

ওইদিন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তার গাড়িচালক মফিদুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তদন্ত প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করতে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া ডা. কায়সার অভিযোগ করেন, অতীতে হাসপাতালের বৈকালিক চেম্বারে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক থেকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা করে আদায় করতেন। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. কায়সার হাসান খানের গাড়িচালক মফিদুল ইসলাম।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।”

সো/গ/অই

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.