স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুই দিনের সফর শেষে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।
শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া রাশেদ খাঁনের একটি চিঠিতেও মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এই চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিশন আচার্য জন্মলগ্ন থেকেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি ওই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় থাকছেন।
রাশেদ খাঁন জানান, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন মিশন আচার্যকে তার মা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
চিঠিতে মিশন আচার্যের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী তাকে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে মিশন আচার্য জানিয়েছিলেন, সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং অন্যজন তিনি হওয়ায় নিয়োগপত্র পাননি বলে জানান তিনি।
মিশনের দাবি ছিল, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে তাকে জানানো হয়, তার নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ কারণেই তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









